চট্টগ্রামে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র : আর্ল মিলার

আওয়াজবিডি ডেস্ক
১৩ অক্টোবর ২০২১, রাত ৮:৫৭ সময়

বুধবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর সঙ্গে তার দফতরে সাক্ষাতের সময় এসব কথা বলেন।

আর্ল মিলার বলেন, যেভাবে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে তাতে চট্টগ্রাম অচিরেই রিজিওন্যাল ও গ্লোবাল কানেক্টিভিটির কার্যকর যোগসূত্র হিসেবে সংযোজিত হবে। এখানে যেসব অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠেছে তাতে বিশ্বের বড় বড় অর্থনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে তার ইতিবাচক প্রভাব শুধু বাংলাদেশ বা অঞ্চলগত নয়, বৈশ্বিকভাবে প্রতিফলিত হবে।

এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত চসিক মেয়রের কাছ থেকে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের অবস্থা ও সমস্যা এবং করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি বর্তমানে কী অবস্থায় ও কোন স্তরে আছে তা জানতে চান।

চসিক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত আগ্রহে চট্টগ্রাম এখন বৈশ্বিক সম্পদে পরিণত হচ্ছে। কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত টানেল চট্টগ্রামকে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ এ পরিণত করতে যাচ্ছে। রেলপথ কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারিত হলে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত যোগাযোগ সংযোগের দ্বার খুলে যাবে। মিরসরাই ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো শিল্পায়নের ক্ষেত্রে চমক দেখাবে। সমগ্র চট্টগ্রামই পর্যটন শিল্পের দ্যুতি ছড়াবে। তাই দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি করে দিতে পারাটাই আমাদের এখন বড় কাজ ও দায়বদ্ধতা। এই কাজ সম্মিলিতভাবেই করতে হবে। এ জন্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তির সহায়তা ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

মেয়র বলেন, আমরা অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ওপর জোর দিতে চাই।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। এই পরিস্থিতি নিরসনের একমাত্র সমাধান হচ্ছে তাদেরকে দ্রুত নিজ মাতৃভূমিতে প্রাপ্য মর্যাদা ও স্বীকৃতি অনুযায়ী প্রত্যাবাসন করা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহীদুল আলম, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাউন্সিলর ফর পলিটিকাল অ্যান্ড ইকোনোমিক অ্যাফেয়ার্স স্কট এ ব্র্যান্ডন, ইকোনোমিক অ্যান্ড কর্মাশিয়াল স্পেশালিস্ট শাহীনুর সিকদার প্রমুখ।

ইব্রাহিম/আওয়াজবিডি

টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ওয়েবিনার

আওয়াজবিডি ডেস্ক
৩০ নভেম্বর ২০২১, দুপুর ১১:১৯ সময়

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ভিনসেন্ট চ্যাং, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব সাব্বির আহমেদ চৌধুরী এবং ইউএন উইমেনের বাংলাদেশ প্রধান গীতাঞ্জলি সিং।

ওয়েবিনারে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সিপিজের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মনজুর হাসান। বিশ্ব শান্তি রক্ষায় সিপিজে ও বাংলাদেশ সর্বদা প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠার পথে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির নানাবিধ অর্জন ও অনন্য সাধারণ দিকগুলো সম্পর্কে অবহিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ড্যাউল্যান্ড।

অনুষ্ঠানে ‘শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা : একুশ শতকের বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির জেনারেল এডুকেশন অনুষদের ডিন এবং সিপিজের রিসার্চ ফেলো ড. সামিহা হক। অর্থনৈতিকভাবে টেকসই, শান্তিপূর্ণ ও বঙ্গবন্ধুর প্রগতিশীল সোনার বাংলা গড়তে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে মূল প্রবন্ধে গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি সব আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা, সহযোগিতা, ন্যায়বিচার ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত করার মাধ্যমে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি স্থানীয় ও বৈশ্বিক শান্তির অগ্রগতিতে অবদান রাখছে। মানবতাকে চ্যাম্পিয়ন করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমি আরও বিশ্বাস করি যে ৫০ বছর আগে বঙ্গবন্ধু এটাই করতে চেয়েছিলেন।’

ইউএন উইমেন বাংলাদেশের হেড অব অফিস গীতাঞ্জলি সিং বলেন, ‘ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সিপিজে এবং ইউএন উইমেন ২০১৮ সাল থেকে ‘উইমেন পিস ক্যাফে’ উদ্যোগের মাধ্যমে শান্তি ও সামাজিক সংহতি প্রচারে একসঙ্গে কাজ করছে। এটি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ মাধ্যম। যেখানে তারা পুরুষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে শান্তি প্রচার এবং লৈঙ্গিক সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে চলছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘কোভিড-১৯ আমাদের একটি শিক্ষা দিয়েছে যে সবাই নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত কেউ নিরাপদ নয়। বৈশ্বিক শান্তি স্থাপন, টেকসই উন্নয়ন এবং সহনশীলতা নিশ্চিত করতে আমাদের অবশ্যই যৌথ দায়িত্ব নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতিসংঘের ‘শান্তির সংস্কৃতি’ রেজুলেশনের প্রস্তাব উত্থাপনকারী দেশ এবং টেকসই উন্নয়ন এবং মানুষের সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমেই এই শান্তি অর্জিত হতে পারে।’

ওয়েবিনারে ইউএন উইমেন ও সিপিজে এর ‘পিস ক্যাফে’র সদস্যরা শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতির বিষয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। এছাড়াও তারা বিভিন্ন সামাজিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্ব শান্তি এবং ন্যায়বিচারের অবদান বিষয়ে আলোকপাত করেন।

এ বিষয়ে পিস ক্যাফে থেকে প্রাপ্ত শিক্ষার কথাও তারা ওয়েবিনারে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, উন্নয়ন সংস্থার কর্মীরা এবং তরুণ পিস ক্যাফে সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টর জেনারেল ফর পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি, হারুন আল রশিদ। ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন সিপিজে এর একাডেমিক অ্যান্ড লিগাল এমপাওয়ারমেন্টের ডিরেক্টর শাহরিয়ার সাদাত।

ইব্রাহিম/আওয়াজবিডি/ইউএস