জানুয়ারিতে আরও ৬ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আওয়াজবিডি ডেস্ক
২০ নভেম্বর ২০২১, রাত ১০:৪৭ সময়

এখন অবদি দেশে ৯ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মোট ১৫ কোটি ভ্যাকসিন দেওয়া হলে দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ দুই ডোজ করে ভ্যাকসিন পেয়ে যাবেন।

শনিবার (২০ নভেম্বর) বিকেলে মানিকগঞ্জ শহীদ মিরাজ তপন স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রিমিয়ার ডিভিশন জেলা ফুটবল লীগের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেছেন, এখনো করোনা বাংলাদেশে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা এখন সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে এসেছে। সংক্রমণের হারও কমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাইড লাইনে আমাদের চেষ্টায় দেশের অবস্থা ভালো আছে। যাদের ভ্যাকসিন দেওয়া কথা ছিল তাদের অনেকেই ভ্যাকসিন পেয়ে গেছেন।

জাহিদ মালেক বলেন, দেশে মোট ১৩ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এর মধ্যে এক কোটি মানুষ দেশের বাইরে রয়েছে। ১২ কোটি মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা হবে। জানুয়ারির মাসের মধ্যে সাড়ে সাত কোটি মানুষকে দুই ডোজ করে টিকা দেওয়া হলে বাকি সাড়ে তিন কোটি মানুষকে পর্যায়ক্রমে টিকা দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ভ্যাকসিন দেওয়ার কারণে করোনা নিয়ন্ত্রণে আছে বলেই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে। যার ফলে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে, খেলাধুলা সচল হয়েছে, দেশে বিদেশে যাওয়া আসা শুরু হয়েছে। টিকা দেওয়ার কারণে মানুষ আর করোনা নিয়ে আগের মতো ভয় পায় না। তবে করোনাকে অবহেলা করা যাবে না। করোনা এখনো চলে যায়নি। সকল ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রিমিয়ার ডিভিশন জেলা ফুটবল লীগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সুদেব সাহা প্রমুখ।

ফুটবল লীগে মোট ৮টি দল অংশ নিচ্ছে। উদ্বোধনী খেলায় পল্লী মঙ্গল সমিতি ৩-০ গোলে হরিরামপুর সাকুচিয়া ক্লাবকে পরাজিত করে।

হাবিব/আওয়াজবিডি/ইউএস

খোলা বাজারে ডলারের দাম শতক ছাড়াল

অনলাইন ডেস্ক
১৭ মে ২০২২, রাত ১০:৩৯ সময়

মার্চের শুরুর দিকে খোলাবাজারে এক ডলার যেখানে বিক্রি হয়েছিল ৯০ টাকা দরে, দুই মাসের ব্যবধানে ডলারের সেই দাম শতক ছাড়িয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (১৭ মে) খোলাবাজারে প্রতি ডলার কিনতে গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০১ টাকা। আন্তঃব্যাংক ও খোলা বাজারে ডলারের বিনিময় হারের পার্থক্য এখন সাড়ে ১২ টাকার ওপরে, যা অতীতে আর দেখা যায়নি।

মতিঝিল ও পল্টনের মানি চেঞ্জারসহ খোলাবাজারে মঙ্গলবার (১৪ মে) মার্কিন ডলার ১০০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০১ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। যা আগের দিন সোমবার বিক্রি হয়েছে ৯৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৩০ পয়সায়। এতে বিপাকে পড়েছেন পর্যটক ও চিকিৎসার জন্য বিদেশগামীরা। ডলারের দাম কমাতে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার কারণে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকায় মানুষ দীর্ঘসময় দেশের বাইরে যাননি। কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদেশে যাওয়া প্রবণতা বেড়েছে। এর মধ্যে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হলে বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় খরচ বেড়ে যায়। তাতে ডলারের চাহিদা বাড়তে থাকে। এর ফলে বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের মুদ্রা টাকার মানও ডলারের বিপরীতে কমতে থাকে। এছাড়া আগামী মাসেই হজযাত্রীরা সৌদি আরব যাবেন। ফলে ডলারের চাহিদা আরও বেড়েছে বাংলাদেশে।

দীর্ঘদিন ধরে মুদ্রা বিনিময় ব্যবসায় জড়িত গুলশান-১ এর মর্জিনা মানি চেঞ্জারের ব্যবস্থাপক মো. গোলাম ফারুক অপু। তিনি বলেন, দীর্ঘ ২১ বছরের অভিজ্ঞতায় এত দ্রুত ডলারের দাম বাড়তে দেখেননি।

গোলাম ফারুকের ভাষ্যমতে, ‘অতীতে দেখা গেছে, ডলারের দাম একবারে বেড়েছে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ পয়সা। এখন দেখছি ৫০ পয়সা করেও বাড়ছে। তাও আবার দিনের মধ্যে একাধিকবার। দর বাড়লেও মানুষ ডলার কেনা কমাচ্ছে না।

যমুনা মানি চেঞ্জারের মালিক আনিসুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ডলারের দাম বেশি। এর কারণ হচ্ছে বাজারে ডলারের সরবরাহ অনেক কম। কিন্তু সেই তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি। এ কারণেই দাম বেড়ে গেছে।

আনিসুজ্জামান বলেন, বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়লেই দাম কমে আসবে। বিদেশ থেকে পকেটে করে ডলার এলেই বাজারে ডলারের ওপর চাপ কমবে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ডলারের যে দর বেঁধে দেওয়া হয়েছিল তা মানছে না বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও। সর্বশেষ সোমবার (১৬ মে) ডলারের দাম ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা বেঁধে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু ব্যাংকে এলসি করতে গেলে ডলারের বিপরীতে নেওয়া হচ্ছে ৯২ থেকে ৯৩ টাকা। আবার কোনো কোনো ব্যাংক ৯৫/৯৬ টাকাও নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছেও এ ধরনের অভিযোগ এসেছে। তবে আমাদের রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি বেশি, এ কারণে ডলারের ওপর চাপ প‌ড়ে‌ছে। এ কারণে ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার সরবরাহ করছে। এখন পর্যন্ত ব্যাংকগু‌লোর চা‌হিদার বিপরী‌তে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিক্রি করা হয়েছে। যখনই প্রয়োজন আরও ডলার সরবরাহ করা হবে।

অনি/আওয়াজবিডি/ইউএস