ঘোড়া প্রতীকে ভোট না দিতে হুমকি দিচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী

আওয়াজবিডি ডেস্ক
২৫ নভেম্বর ২০২১, দুপুর ১০:০৩ সময়
ইউপি নির্বাচন —প্রতীকী ছবি

জাকির ঘোড়া প্রতীকে ভোটাররা যেন ভোট না দেন, সেজন্য টিপু চাপ প্রয়োগ করছেন। এর ব্যত্যয় হলে ভোটারদের মারপিট করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে বুধবার (২৪ নভেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জাকি। ভোটাররা যেন শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারেন, সে ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগের অনুলিপি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও নির্বাচন কর্মকর্তাকেও দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ নভেম্বর শ্রীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জাকি ও টিপু দুজনের বাড়ি শ্রীরামপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে। জাকি ঘোড়া এবং টিপু টেলিফোন প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, টিপু ও তার লোকজন জাকিকে তার নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। গ্রামের ভোটাররা যেন ঘোড়া প্রতীকে ভোট না দিয়ে টেলিফোনে দেন, সেজন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। এর ব্যত্যয় হলে ভোটারদের মারপিট করবেন বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকে জাকি ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, শ্রীরামপুর গ্রামের ৫, ৬, ৭, ৮ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের (দড়িশ্রীরামপুর) কেন্দ্রগুলোতে ভোটাররা যদি টিপুর টেলিফোন প্রতীকে ভোট না দেয়, তাহলে ভোটারদের মারপিট করে নিজেরাই ব্যালটে সিল মারবে। এ অবস্থায় ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে ভয় পাচ্ছেন।

এছাড়া জাকির কর্মী-সমর্থকরাও নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে সাহস পাচ্ছেন না। ভোটাররা যেন শান্তিপূর্ণভাবে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন এবং জাকি যেন নির্বিঘ্নে তার প্রচারণা চালাতে পারেন- সেই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত অভিযোগে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হক টিপু বলেন, আমার একটি মামলার আসামি হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন জাকি। ভোটারদের হুমকি ও প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ইব্রাহিম/আওয়াজবিডি/ইউএস

টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ওয়েবিনার

আওয়াজবিডি ডেস্ক
৩০ নভেম্বর ২০২১, দুপুর ১১:১৯ সময়

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ভিনসেন্ট চ্যাং, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব সাব্বির আহমেদ চৌধুরী এবং ইউএন উইমেনের বাংলাদেশ প্রধান গীতাঞ্জলি সিং।

ওয়েবিনারে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সিপিজের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মনজুর হাসান। বিশ্ব শান্তি রক্ষায় সিপিজে ও বাংলাদেশ সর্বদা প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠার পথে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির নানাবিধ অর্জন ও অনন্য সাধারণ দিকগুলো সম্পর্কে অবহিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ড্যাউল্যান্ড।

অনুষ্ঠানে ‘শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা : একুশ শতকের বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির জেনারেল এডুকেশন অনুষদের ডিন এবং সিপিজের রিসার্চ ফেলো ড. সামিহা হক। অর্থনৈতিকভাবে টেকসই, শান্তিপূর্ণ ও বঙ্গবন্ধুর প্রগতিশীল সোনার বাংলা গড়তে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে মূল প্রবন্ধে গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি সব আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা, সহযোগিতা, ন্যায়বিচার ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত করার মাধ্যমে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি স্থানীয় ও বৈশ্বিক শান্তির অগ্রগতিতে অবদান রাখছে। মানবতাকে চ্যাম্পিয়ন করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমি আরও বিশ্বাস করি যে ৫০ বছর আগে বঙ্গবন্ধু এটাই করতে চেয়েছিলেন।’

ইউএন উইমেন বাংলাদেশের হেড অব অফিস গীতাঞ্জলি সিং বলেন, ‘ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সিপিজে এবং ইউএন উইমেন ২০১৮ সাল থেকে ‘উইমেন পিস ক্যাফে’ উদ্যোগের মাধ্যমে শান্তি ও সামাজিক সংহতি প্রচারে একসঙ্গে কাজ করছে। এটি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ মাধ্যম। যেখানে তারা পুরুষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে শান্তি প্রচার এবং লৈঙ্গিক সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে চলছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘কোভিড-১৯ আমাদের একটি শিক্ষা দিয়েছে যে সবাই নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত কেউ নিরাপদ নয়। বৈশ্বিক শান্তি স্থাপন, টেকসই উন্নয়ন এবং সহনশীলতা নিশ্চিত করতে আমাদের অবশ্যই যৌথ দায়িত্ব নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতিসংঘের ‘শান্তির সংস্কৃতি’ রেজুলেশনের প্রস্তাব উত্থাপনকারী দেশ এবং টেকসই উন্নয়ন এবং মানুষের সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমেই এই শান্তি অর্জিত হতে পারে।’

ওয়েবিনারে ইউএন উইমেন ও সিপিজে এর ‘পিস ক্যাফে’র সদস্যরা শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতির বিষয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। এছাড়াও তারা বিভিন্ন সামাজিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্ব শান্তি এবং ন্যায়বিচারের অবদান বিষয়ে আলোকপাত করেন।

এ বিষয়ে পিস ক্যাফে থেকে প্রাপ্ত শিক্ষার কথাও তারা ওয়েবিনারে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, উন্নয়ন সংস্থার কর্মীরা এবং তরুণ পিস ক্যাফে সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টর জেনারেল ফর পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি, হারুন আল রশিদ। ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন সিপিজে এর একাডেমিক অ্যান্ড লিগাল এমপাওয়ারমেন্টের ডিরেক্টর শাহরিয়ার সাদাত।

ইব্রাহিম/আওয়াজবিডি/ইউএস