ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে ২৭ অভিবাসীর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
২৫ নভেম্বর ২০২১, দুপুর ১১:০৮ সময়

গত ২০১৪ সালের পর থেকে এটি এই চ্যানেলে একক দুর্ঘটনায় ‘সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির’ ঘটনা বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। 

ফ্রান্সের কালাই উপকূলের কাছে বুধবার সন্ধ্যার পর নৌকাটি ডুবে যায় বলে জানিয়েছে বিবিসি।

বুধবার রাতে একটি মাছ ধরার নৌকা পানিতে বেশ কিছু মৃতদেহ ভেসে থাকতে দেখলে অ্যালার্ম বাজিয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে।

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের কর্তৃপক্ষ ইংলিশ চ্যানেলে নৌযান এবং বিমানের মাধ্যমে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। 

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, নৌকাটিতে ৩৩ জন অভিবাসী ছিল, যাদের মধ্যে দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন নারী ও দুজন শিশু রয়েছে। 

ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে থাকা অভিবাসন প্রত্যাশীরা মানব পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে ফ্রান্স থেকে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে যাচ্ছিল। 

ডারমানিন জানিয়েছেন, ফ্রান্সের পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে চারজন সন্দেহভাজন মানব পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। 

দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, দুর্ঘটনার খবরে তিনি ‘বিস্মিত ও আতঙ্কিত’।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘ফ্রান্স ইংলিশ চ্যানেলকে সমাধিক্ষেত্র হতে দেবে না। ’

সম্প্রতি ইংলিশ চ্যানেল হয়ে ছোট নৌকায় হাজার হাজার মানুষ ফ্রান্স থেকে যুক্তরাজ্যে গেছেন। 

যুক্তরাজ্যের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুধু নভেম্বর মাসেই ইংলিশ চ্যানেল হয়ে ১৭৯টি ছোট নৌকা অভিবাসীদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে যায়। 

এই বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৯২৮টি নৌকা অভিবাসীদের নিয়ে এই যাত্রা করেছে। 

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই বছরেই ছোট নৌকায় করে বিপজ্জনকভাবে ফ্রান্স থেকে যুক্তরাজ্যে গেছেন ২৫ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ। গত বছর এই সংখ্যাটি ছিল ৮ হাজার ৪৬৯ জন।

কামরুন নাহারকে ছাড়া ভিকারুননিসা চলবে না, প্রশ্ন হাইকোর্টের

আওয়াজবিডি ডেস্ক
৩০ নভেম্বর ২০২১, দুপুর ১:১২ সময়

মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

শুনানির শুরুতে অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া রাসেল বলেন, দীর্ঘদিন হয়ে গেছে আদালতের আদেশ স্বত্ত্বে ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট এখনও দাখিল করা হয়নি। উনি অধ্যক্ষ পদে থাকা অবস্থায় তদন্ত হলে তা ঠিকমত হবে না। ওনার বিপক্ষে কেউ রিপোর্ট দেবে না। তাই রিপোর্ট দাখিলের আগ পর্যন্ত কামরুন নাহারকে ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার আদেশ প্রার্থনা করছি। আর সরকারের প্রতি নির্দেশনা দিন দ্রুত যেন রিপোর্ট দাখিল করে।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার এই রিটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বলেন, এই রিট গ্রহণযোগ্য নয়।

এ পর্যায়ে ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের আইনজীবী মুশফিক উদ্দিন বখতিয়ার আদালতকে বলেন, মাইলর্ড রিট তো চলে না প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে একটা সিন্ডিকেটও আছে। কামরুন নাহার একজন বিসিএস ক্যাডার। তিনি একটি কলেজের অধ্যক্ষ পদে দায়িত্বে ছিলেন। তিনি এখানে থাকতে চান না। তাকে জোর করে ভিকারুননিসায় আনা হয়েছে।

তখন হাইকোর্ট বলেন, তিনি এমন কোনো লোক না যে তাকে ছাড়া ভিকারুননিসা চলবে না। এসব কথা কোর্টে এসে বলবেন না।

এরপর আদালত ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি এই রিট মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার ও অভিভাবক ফোরামের নেতা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

তদন্ত রিপোর্ট দাখিলে রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত ৯ আগস্ট শুনানিতে আদালত বলেছেন, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার ফোনালাপে যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, সত্যি হয়ে থাকলে অবশ্যই নিন্দনীয়। এটা অপ্রত্যাশিত। তার মুখ থেকে এ ধরনের ভাষা আশা করা যায় না।

তার আগে ৮ জুলাই ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও অভিভাবক ফোরামের নেতার ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। রিটে অধ্যক্ষ কামরুন নাহারকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই ছাত্রীর অভিভাবক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম রিট দায়ের করেন। রিটে শিক্ষা সচিব ও শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ও গর্ভনিং বডির সভাপতিকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া রাসেল সে সময় বলেন, ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ কামরুন নাহার অডিওতে যেসব কথা বলেছেন, তাতে তিনি ওই কলেজের অধ্যক্ষ পদে থাকার নৈতিক অবস্থান হারিয়েছেন। কারণ তিনি অধ্যক্ষ পদে বহাল থাকলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর এর প্রভাব পড়বে।

ইব্রাহিম/আওয়াজবিডি/ইউএস