হাফ ভাড়া চালুর বিষয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত শনিবারের মধ্যে : কাদের

আওয়াজবিডি ডেস্ক
২৫ নভেম্বর ২০২১, দুপুর ৪:৫৯ সময়
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের —ছবি: ফেসবুক

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

সেতুমন্ত্রী বলেন, আজ (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রধান কার্যালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। তাতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। আশা করছি, সভা থেকে এ বিষয়ে একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত আসবে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) বাসে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া চালুর বিষয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি। শুধু সরকারি বাসে নয় বেসরকারি বাসেও শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া চালুর বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্টদের কাছে সহযোগিতা কামনা করব। শনিবার বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাস মালিকদের সঙ্গে বসে এ ব্যাপারে একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্তে আসবেন বলে আমি আশা রাখি।

বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটের সেমিনার হলে সড়ক পরিবহন মালিকদের এই সম্মেলন শুরু হয়েছে। সংগঠনের ১৩০টি ইউনিটের প্রতিনিধিরা তাতে অংশ নিয়েছেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছেন সংগঠনের সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গা।

সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, সভায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী পরিষদের সব কর্মকর্তা ও দেশের সকল জেলা শাখা/ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কাউন্সিলররা উপস্থিত আছেন।

জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভা ও কাউন্সিল অনুষ্ঠান শুরু হয়। তারপর শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন সংগঠনের মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। পরে সংগঠনের বিভাগীয় প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখতে শুরু করেন।

সংগঠনের রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনজুর বলেন, সরকার বিরোধীরা শিক্ষার্থীদেরকে উস্কে দিয়ে রাস্তায় নামিয়েছে। হাফ পাস চালুর দাবিত তাদেরকে মাঠে নামানো হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এদিকে বিআরটিসির বাসে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া চালুর প্রস্তাব দেওয়া হবে। হাফ ভাড়ার বিষয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) বিআরটিএ প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সভায় বাস মালিকদের পক্ষে এ প্রস্তাব দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় অংশীজনদের নিয়ে এ সভা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তাতে সড়ক পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। পরিবহন মালিকদের একাধিক সংগঠনও এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে, বাস মালিকদের একাধিক নেতা ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন, বেসরকারি বাসে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া চালু হলে অনেকে ভুয়া পরিচয়পত্র দেখিয়ে বাসে যাতায়াত করবেন, এতে বাস মালিকদের লোকসান হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও অনেক বেড়েছে‌। ফলে বেসরকারি বাসে হাফ ভাড়া চালু করা উচিত হবে না। আবার সরকার এ জন্য বেসরকারি বাসে কোনো ভর্তুকিও দেবে না।

রাজধানীর ১২৮টি রুটে বাস-মিনিবাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ফলে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি চলছে। প্রথা চালু থাকলেও বাসে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের চাপে কোনো কোনো বাস কোম্পানি হাফ ভাড়া নেওয়ার জন্য রাজি হয়েছে। ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনেও ৯টি দাবির মধ্যে হাফ ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি ছিল।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বাসে শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক ভাড়া পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে কবে করা হবে তা স্পষ্ট নয়।

তবে বাসে হাফ ভাড়ার দাবিতে রাজধানীতে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীরা আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে। শিক্ষার্থীদের হাফপাসের দাবিকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

একমাত্র সরকারি সড়ক পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাসেও শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, আমাদের সরকারি বাসে হাফ ভাড়া নেওয়া হয় না। এ বিষয়ে সরকারি কোনো নির্দেশ আমাদের কাছে আসেনি। সরকার নির্দেশ দিলে আমরা বিআরটিসির বাসে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাফ ভাড়া নেব।

ডিজেলের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ার পর গত ৭ নভেম্বর থেকে বাস ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়য়ের পাশাপাশি হাফ ভাড়া নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের বাকবিতণ্ডা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তা আন্দোলন-কর্মসূচিতে গড়াচ্ছে।

ইব্রাহিম/আওয়াজবিডি/ইউএস

কঙ্গোতে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত অন্তত ২২

আওয়াজবিডি ডেস্ক
৩০ নভেম্বর ২০২১, দুপুর ১১:১৫ সময়

একজন সহায়তা কর্মী এবং অধিকার বিষয়ক সংগঠনের একজন নেতার বরাত দিয়ে সোমবার (২৯ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি ও সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। তবে হামলার ঘটনা কবে ঘটেছে সেটি জানানো হয়নি।

কঙ্গোর রেডক্রসের কো-অর্ডিনেটর ম্যাম্বো বাপু ম্যান্স সোমবার এএফপি’কে জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পর নিহত ২০ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে দু’টি কবরস্থানে দাফন করা হয়। হামলায় আহত আরও দু’জন পরে মারা গেলে তাদেরও ওই কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে দেশটির ইতুরি প্রদেশের ওই একই ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছিল বন্দুকধারীরা। প্রাণঘাতী ওই হামলায় ২৯ জন নিহত হয়েছিলেন। তবে মানবাধিকার গ্রুপের প্রেসিডেন্ট চ্যারিট বানজা মৃতের সংখ্যা ২২ বলে জানিয়েছিলেন।

সর্বশেষ হামলার পর চ্যারিট বানজা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানান, ‘দেশের এই অংশে অবস্থিত অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত সাধারণ মানুষের এই ক্যাম্পে এক সপ্তাহের ব্যবধানে মোট তিনবার হামলার ঘটনা ঘটল। এই তিন হামলায় ৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা কিভু সিকিউরিটি ট্র্যাকার (কেএসটি) আফ্রিকার এই অঞ্চলে সহিংসতা পর্যবেক্ষণ করে থাকে। কঙ্গোতে বন্দুকধারীদের হামলায় চালানো সর্বশেষ হামলায় নিহতের সংখ্যাটি তারাও নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে কঙ্গোর ইতুরি অঞ্চলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জুয়েলস এনগঙ্গো জানিয়েছেন, কোডেকো বিদ্রোহীদের বিতাড়িত করা হয়েছে। তবে এর বেশি আর কোনো তথ্য জানাননি তিনি।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশের জুগু অঞ্চলে ২০১৭ সাল থেকে চালানো একের পর এক হামলায় কোডেকো মিলিশিয়ার যোদ্ধারা শত শত বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে। এছাড়া হাজার হাজার মানুষকে তাদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতেও বাধ্য করেছে গোষ্ঠীটি।

ডিআর কঙ্গোর উত্তরের সীমান্ত লাগোয়া দেশগুলো হলো উগান্ডা, রুয়ান্ডা ও বুরুন্ডি। ওই অঞ্চলে শতাধিক সশস্ত্র বিদ্রোহীগোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। আনুষ্ঠানিক ভাবে ২০০৩ সালে গৃহযুদ্ধ শেষ হলেও এখনও এ রকম হামলা প্রায়ই হয়।

ইব্রাহিম/আওয়াজবিডি/ইউএস