‘ভূমিহীন’ বলে পুলিশে চাকরি হচ্ছে না আসপিয়ার

আওয়াজবিডি ডেস্ক
১০ ডিসেম্বর ২০২১, দুপুর ১:১৯ সময়
বরিশাল পুলিশ লাইনসের মূল ফটকের সামনে হতাশ হয়ে বসে আছেন আসপিয়া —ছবি: সংগৃহীত

চাকরির জন্য মনোনীত হওয়ায় আসপিয়ার পরিবারে খুশির জোয়ার বইছিল। কিন্তু হঠাৎই সেই খুশি ফিকে হয়ে গেছে। কারণ, নিজেদের কোনো জমি না থাকায় চাকরিটা পাচ্ছেন না তিনি। এ খবর শুনে ভেঙে পড়েছেন বরিশালের হিজলা উপজেলার আসপিয়া।

২৯ নভেম্বর মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ঢাকার রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ লাইনস হাসপাতালে চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা হলে সেখানেও উত্তীর্ণ হন তিনি। এরপর চূড়ান্ত নিয়োগের আগে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আসপিয়া ও তাঁর পরিবারকে ‘ভূমিহীন’ উল্লেখ করা হয়।

২০২০ সালে আসপিয়া বরিশালের সরকারি হিজলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। উপজেলার খুন্না-গোবিন্দপুর গ্রামের এক ব্যক্তির জমিতে আশ্রিত হিসেবে বসবাস করেন তারা। নদীভাঙনের কবলে পড়ে ১৫ বছর আগে আসপিয়ার বাবা সফিকুল ইসলাম পরিবার নিয়ে ভোলা থেকে হিজলায় আসেন। আসপিয়ারা চার ভাইবোন। তবে বাবার মৃত্যুর পর থেকে আসপিয়ার বড় ভাই এখন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাই চাকরি করে সংসারের আর্থিক টানাটানি দূর করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি।

জমি না থাকায় চাকরি হবে না, এটা জেনেই গত বুধবার সকালে আসপিয়া ছুটে যান বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এস এম আকতারুজ্জামানের কার্যালয়ে। চাকরি না হওয়ার কারণ জানার জন্য ডিআইজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আসপিয়া। ডিআইজি তাকে জানান, পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগের বিধি অনুযায়ী, প্রার্থীকে অবশ্যই নিজ জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। কিন্তু তার হিজলায় নিজস্ব কোনো জমি নেই। তাই আইন অনুযায়ী তাকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই। হতাশ হয়ে আসপিয়া দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বরিশাল পুলিশ লাইনসের মূল ফটকের সামনে বসে থাকেন।

আমি যোগ্যতাবলে সাতটি ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত নিয়োগের অপেক্ষায় ছিলাম। এর মধ্যে হিজলা থানার ওসি জানান, চাকরি পেতে হলে নিজেদের জমিসহ ঘর দেখাতে হবে। কিন্তু আমাদের কোনো জমি নেই।-আসপিয়া ইসলাম

আসপিয়া জানান, গত সেপ্টেম্বরে বরিশাল জেলায় পুলিশ কনস্টেবলের শূন্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলে তিনি অনলাইনে আবেদন করেন। এরপর জেলা পুলিশ লাইনসে শারীরিক যোগ্যতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৭ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। এতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর গত ২৪ নভেম্বর একই স্থানে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধা তালিকায় পঞ্চম হন আসপিয়া।

২৬ নভেম্বর জেলা পুলিশ লাইনসে চিকিৎসকেরা প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এতেও উত্তীর্ণ হয়েছিলেন আসপিয়া। পরে ২৯ নভেম্বর মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ঢাকার রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ লাইনস হাসপাতালে চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা হলে সেখানেও উত্তীর্ণ হন তিনি। এরপর চূড়ান্ত নিয়োগের আগে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আসপিয়া ও তার পরিবারকে ‘ভূমিহীন’ উল্লেখ করা হয়। বুধবার জেলা পুলিশ সুপার বরাবর প্রতিবেদন জমা দেন হিজলা থানার উপপরিদর্শক মো. আব্বাস। এর আগেই ভূমিহীন হওয়ায় আসপিয়ার চাকরি হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।

আসপিয়া বলেন, ‘আমি যোগ্যতাবলে সাতটি ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত নিয়োগের অপেক্ষায় ছিলাম। এর মধ্যে হিজলা থানার ওসি জানান, চাকরি পেতে হলে নিজেদের জমিসহ ঘর দেখাতে হবে। কিন্তু আমাদের কোনো জমি নেই। আমরা আরেকজনের জমিতে অনেক বছর ধরে বসবাস করছি। জমি নেই বলে আমার চাকরি হবে না, এটা বিশ্বাস হচ্ছিল না। বুধবার দুপুরে ডিআইজি স্যারের কাছে গিয়ে তাকে সবকিছু খুলে বলেছি। কিন্তু আইনের বাধ্যবাধকতা থাকায় সেটা সম্ভব হয়নি।’

সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) বরিশাল জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শাহ সাজেদা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। এটা আমাকে খুব মর্মাহত করেছে। পরীক্ষায় সবগুলো ধাপ উতরে গিয়েও ভূমিহীন হওয়ার কারণে মেয়েটির চাকরি হবে না, এটা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে।’ প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করে হলেও মেয়েটিকে পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এস এম আকতারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ‌আসপিয়া নিঃসন্দেহে অত্যন্ত মেধাবী। তাঁকে পুলিশ বাহিনীতে পাওয়া গেলে ভালো হতো। কিন্তু জেলাভিত্তিক পুলিশে নিয়োগ হয়। এ ক্ষেত্রে চাকরিপ্রার্থীকে অবশ্যই জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে, এমন বিধান রয়েছে। কিন্তু আসপিয়ার জমি না থাকায় তাঁকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

ইব্রাহিম/আওয়াজবিডি/ইউএস

বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়ে দিশাহীন বাংলাদেশের পরাজয়

অনলাইন ডেস্ক
৪ জুলাই ২০২২, রাত ৩:৪২ সময়

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই ক্যারিবিয়ানদের আকাশ যতটা উজ্জ্বল হচ্ছিল, টাইগারদের আকাশ ঢেকে যাচ্ছিল কালো মেঘে। ছন্নছাড়া বোলিংয়ের পর ধীরগতির বিরক্তিকর ব্যাটিং বাংলাদেশকে দিল বড় পরাজয়ের স্বাদ। ব্যাটে-বলে স্বাগতিকদের সামনে আজ দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশ! পরাজিত হতে হয়েছে ৩৫ রানের ব্যবধানে।

উইন্ডসর পার্কে রান তাড়ায় এনামুল হক বিজয় আর লিটন দাসকে দিয়ে শুরু করে বাংলাদেশ। বাউন্ডারি মেরে রানের খাতা খোলেন লিটন। কিন্তু দ্রুতই নেমে আসে বিপর্যয়। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই দলীয় ৮ রানে লিটনকে (৫) ফেরান ওবেদ ম্যাককয়। পরের বলে বোল্ড হয়ে যান অপর ওপেনার এনামুল হক বিজয় (৩)। ৮ রানে নেই ২ উইকেট! দলের বিপদ আরও বাড়ান অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। চমৎকার দুটি শটে চার-ছক্কা আদায় করে নিলেও দলীয় ২৩ রানে ওডেন স্মিথের বলে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন ১১ রান করে। এরপর সাকিব আর আফিফের ব্যাটে পাওয়ারপ্লেতে আসে ৪৪ রান।

কিন্তু দুজনের ব্যাটিং টার্গেটের সঙ্গে মোটেও মানানসই ছিল না। জুটি পঞ্চাশ ছাড়িয়ে গেলেও ১০ ওভারে দলের স্কোরবোর্ডে যোগ হয় মাত্র ৭৭ রান। অবশেষে ৪৩ বলে ৫৫ রানের ধীরগতির জুটি ভাঙে আফিফের বিদায়ে। শেপার্ডের বলে ২৭ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় ৩৪ রান করা আফিফ ক্যাচ দেন কিপারের গ্লাভসে। ৭৮ রানে চতুর্থ উইকেটর পতন। বাংলাদেশের পঞ্চম উইকেটের পতন হয় দলীয় ৯৭ রানে। আকিল হোসেনের বলে সীমানায় ক্যাচ দিয়ে ফিরেন ১৩ বলে ৭ রান করা সোহান।

১৫ ওভারে ১০০ স্পর্শ করে। ততক্ষণে দলের পরাজয় মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেছে। শেষদিকে সাকিব আর মোসাদ্দেক কেবল পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছেন। ৪৫ বলে ফিফটি তুলে নেন সাকিব। এটা তার ক্যারিয়ারের মন্থরতম ফিফটি। দুজনের ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে আসে ২৮ বলে ৫৩ রান। মোসাদ্দেক ১১ বলে ১৫ রানে শেপার্ডের দ্বিতীয় শিকার হন। সাকিব অপরাজিত থাকেন ৫২ বলে ৫ চার ৩ ছক্কায় ৬৮* রানে। এই ইনিংস খেলার পথেই তিনি টি-টোয়েন্টিতে দুই হাজার রান ছাড়িয়ে যান। বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৮ রানে থামে। ৩৫ রানের জয় তুলে নেয় ক্যারিবিয়ানরা।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৩ রান তোলে উইন্ডিজ। শেখ মেহেদি আর সাকিব আল হাসানের সৌজন্যে ২৬ রানে ২ উইকেট হারালেও ঘুরে দাঁড়ায় ক্যারিবিয়ানরা। তৃতীয় উইকেটে ৫৬ বলে ৭৪ রানের জুটি গড়েন ব্রেন্ডন কিং আর নিকোলাস পুরান। ৩০ বলে ৩৪ রান করা ক্যারিবিয়ান অধিনায়ককে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মোসাদ্দেক। সেটি ছিল মেডেন উইকেট। আশ্চর্য হলেও সত্য, এরপর মোসাদ্দেককে আর বোলিং দেননি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ।

শেষদিকে ব্যাট হাতে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন রোভম্যান পাওয়েল। খেলেন ২৮ বলে ২ চার ৪ ছক্কায় অপরাজিত ৬১* রানের ইনিংস। এছাড়া ব্রেন্ডন কিং ৪৩ বলে ৭ চার ১ ছক্কায় ৫৭ রান করেন। বাংলাদেশের হয়ে ৩ ওভারে সবচেয়ে বেশি ৪৬ রান দেন তাসকিন। ২ উইকেট নিলেও আরেক পেসার শরীফুল ৪ ওভারে দেন ৪০ রান। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন সাকিব এবং শেখ মেহেদি।