যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায় তুষারঝড়, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন দেড় লাখ মানুষ

উত্তর আমেরিকা অফিস
১৭ জানুয়ারি ২০২২, রাত ৯:১৫ সময়

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর ইউএস ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের (এনডব্লিউএস) বরাত দিয়ে সোমবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের দিন রোববার থেকে শুরু হওয়া ঝড়ো হাওয়া ও তুষারঝড়ে ১ ফুটের বেশি পুরু তুষারের স্তরে ঢেকে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যারোলাইনা ও নিউইয়র্ক ও কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের বেশ কিছু স্থান।

এদিকে, তীব্র ঠাণ্ডা ও তুষারপাতের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই ৭ অঙ্গরাজ্যে ভেঙে পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে এসব অঙ্গরাজ্যে ১ লাখ ৪৫ হাজারেরও বেশি মানুষ আছেন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায়।

এই আবহাওয়ায় উপদ্রুত অঙ্গরাজ্যগুলোর বাসিন্দাদের জন্য বাড়ির বাইরে বের হওয়া বিপজ্জনক হতে পারে- সতর্কবার্তা দিয়ে এনডব্লিউএসের সোমবারের বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এই সাত অঙ্গরাজ্যে বেশ কিছু সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঝড় তুষারপাতের কারণে গাছপালা ভেঙে পড়াসহ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন এলাকার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে- উল্লেখ করে বুলেটিনে আরও বলা হয়, ঝড়ের কারণে নিউইয়র্ক ও কানেকটিকাট রাজ্যের উপকূলীয় এলাগুলোতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়ারও সম্ভাবনা আছে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে রোববার থেকে এখন পর্যন্ত ৩ হাজারেরও বেশি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ব্রায়ান কেম্প বিবিসিকে এ সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা যত ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করেছিলাম, এখন পর্যন্ত তা হয়নি- এটি একটি বড় স্বান্তনা; তবে আবহাওয়ার অবস্থা খুবই বাজে। যে কোনো সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার শঙ্কা আছে।’

ফেডারেল সরকার ইতোমধ্যে উপদ্রুত অঙ্গরাজ্যগুলোর গভর্নরদের দুর্যোগ মোকাবিলা করতে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন ব্রায়ান কেম্প।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সীমান্তঘেঁষা কানাডার অন্টারিও প্রদেশেও ঝড় ও ব্যাপক তুষারপাত শুরু হয়েছে। প্রাদেশিক রাজধানী ও কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টো গত ২৪ ঘণ্টার তুষারপাতে ৭ ইঞ্চি পুরু তুষারের স্তরে ঢেকে গেছে বলে জানিয়েছে কানাডার আবহাওয়া দফতর।

ইব্রাহিম/আওয়াজবিডি/ইউএস

কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সে থাকা গম রপ্তানি করবে ভারত

অনলাইন ডেস্ক
১৮ মে ২০২২, রাত ১২:২০ সময়

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে মঙ্গলবার এ কথা বলা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, যেসব গম কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে পরীক্ষার জন্য এবং ১৩ই মের আগে বা ওইদিন তাদের কাছে নিবন্ধিত হয়েছে, সেইসব গমের শিপমেন্ট অনুমোদনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মিশর সরকারের এক অনুরোধের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার মিশরে গমের চালান পাঠাতে অনুমোদন দিয়েছে। এই চালানের গম এরই মধ্যে কান্দলা বন্দরে লোড করা হচ্ছে।

আকস্মিক গত রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত সরকার। এর ফলে বিভিন্ন বন্দরের বাইরে গমভর্তি হাজার হাজার ট্রাক অবস্থান করছে। দেশের ভিতরে দাম বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ১৩ই মে সরকার গম রপ্তানি নিষিদ্ধ করে। এ বিষয়ে একটি নোটিফিকেশন জারি করেছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি)

এতে বলা হয়েছে, দেশে সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষা করতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রয়োজনে সাপোর্ট দিতে এবং অন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই নোটিফিকেশনে আরও বলা হয়েছে, বেসরকারি ব্যবসায়ীরা ‘লেটার অব ক্রেডিটের’ মাধ্যমে আগেভাগে যেসব প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এইসব বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না। অন্য দেশের অনুরোধের প্রেক্ষিতেও সরকার রপ্তানি অনুমোদন দেবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ তিনটি প্রধান কারণে দেয়া হয়েছে। তা হলো, ভারতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলা করা, অন্য দেশগুলো যারা খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলা করছে তাদেরকে সহায়তা করা এবং ভারতের একটি নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারীর মর্যাদা রক্ষা করা।

অনি/আওয়াজবিডি/ইউএস