যুক্তরাষ্ট্রে ফাইভ-জি চালু ঘিরে বৈশ্বিক বিমান চলাচলে বিশৃঙ্খলা

উত্তর আমেরিকা অফিস
১৯ জানুয়ারি ২০২২, বিকাল ৭:২৮ সময়

যদিও যুক্তরাষ্ট্রে ফাইভ-জি সেবা চালু করতে যাওয়া দেশটির দুই সংস্থা এটিঅ্যান্ডটি এবং ভেরাইজন বলছে, তাদের এই সেবা কার্যক্রমের কিছু অংশ পিছিয়ে দেওয়া হবে।

ফাইভ-জি সেবা চালু হলে তা বিমানগুলোকে উচ্চতা পরিমাপে বাধার মুখোমুখি করতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে দ্য ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পরিস্থিতিতে কিছু বিমানের অবতরণের সময় এই উচ্চতা পরিমাপ অত্যন্ত জরুরি।

বিমান সংস্থাগুলো বলছে, বোয়িং-৭৭৭ ও ৭৪৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজগুলো ফাইভ-জি সেবার ক্ষতির মুখে রয়েছে। বিমানবন্দরের কাছে ফাইভ-জি সেবা চালু স্থগিত রাখবে বলে এটিঅ্যান্ডটি এবং ভেরাইজন ঘোষণা দেওয়া সত্ত্বেও বিশ্বের প্রধান কয়েকটি এয়ারলাইনস তাদের ফ্লাইট বাতিল অথবা উড়োজাহাজের মডেল বদল করেছে।

এর আগে, মঙ্গলবার শেষ রাতের দিকে এফএএ তাদের নির্দেশনা হালনাগাদ করেছে। এতে কোন কোন বিমানবন্দর এবং কোন মডেলের উড়োজাহাজের ওপর ফাইভ-জি সেবার প্রভাব পড়বে তা জানানো হয়েছে।

বোয়িং ৭৭৭ মডেলের উড়োজাহাজের বিশ্বের বৃহত্তম পরিবহন সংস্থা দুবাই এমিরেটস বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে ফাইভ-জি পরিষেবা চালুর নির্ধারিত সময় ১৯ জানুয়ারি থেকে তারা দেশটির অন্তত ৯টি গন্তব্যে বিমান চলাচল স্থগিত করবে। তবে দেশটির নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি, লস অ্যাঞ্জেলস এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে বিমান চলাচল অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে এমিরেটস।

জাপানের প্রধান দুই বিমানসংস্থা এআইআই নিপ্পন এয়ারওয়েজ (এএনএ) এবং জাপান এয়ারলাইনস বলছে, তারা বোয়িং ৭৭৭ এর ফ্লাইট চলাচল কমিয়ে দেবে। এএনএ বলছে, তারা মার্কিন ফ্লাইটগুলোতে ব্যবহৃত বিমান বাতিল অথবা পরিবর্তন করছে।

জার্মানির লুফথানসা বলছে, তারা ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে মিয়ামীগামী একটি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বোয়িং ৭৪৭-৮ ও ৭৪৭-৪০০ বোয়িংয়ের পরিবর্তে অন্য উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হবে।

বিশ্বজুড়ে যাত্রী-পণ্য পরিবহন, সরবরাহ, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহের মতো কার্যক্রম পরিচালনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মার্কিন বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে দেশটির ১০টি প্রধান এয়ারলাইনস সংস্থা।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় অবতরণের সময় বিমানের উচ্চতা মাপার জন্য ব্যবহৃত রেডিও তরঙ্গ ফাইভ-জি সেবায় ব্যবহৃত সি-ব্যান্ড বেতার তরঙ্গের প্রায় কাছাকাছি। যে কারণে বিমানবন্দরের কাছে ফাইভ-জি সেবা চালু করা হলে তা বিমানের উচ্চতা পরিমাপে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান এয়ারলাইনসগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী একটি বাণিজ্যিক সংস্থা বলছে, ফাইভ-জি সেবা চালু করা হলে তা বিমান চলাচলে ‘বিপর্যয়কর ব্যাঘাত’ তৈরি করবে। সূত্র: রয়টার্স, ব্লুমবার্গ।

ইব্রাহিম/আওয়াজবিডি/ইউএস

খোলা বাজারে ডলারের দাম শতক ছাড়াল

অনলাইন ডেস্ক
১৭ মে ২০২২, রাত ১০:৩৯ সময়

মার্চের শুরুর দিকে খোলাবাজারে এক ডলার যেখানে বিক্রি হয়েছিল ৯০ টাকা দরে, দুই মাসের ব্যবধানে ডলারের সেই দাম শতক ছাড়িয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (১৭ মে) খোলাবাজারে প্রতি ডলার কিনতে গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০১ টাকা। আন্তঃব্যাংক ও খোলা বাজারে ডলারের বিনিময় হারের পার্থক্য এখন সাড়ে ১২ টাকার ওপরে, যা অতীতে আর দেখা যায়নি।

মতিঝিল ও পল্টনের মানি চেঞ্জারসহ খোলাবাজারে মঙ্গলবার (১৪ মে) মার্কিন ডলার ১০০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০১ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। যা আগের দিন সোমবার বিক্রি হয়েছে ৯৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৩০ পয়সায়। এতে বিপাকে পড়েছেন পর্যটক ও চিকিৎসার জন্য বিদেশগামীরা। ডলারের দাম কমাতে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার কারণে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকায় মানুষ দীর্ঘসময় দেশের বাইরে যাননি। কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদেশে যাওয়া প্রবণতা বেড়েছে। এর মধ্যে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হলে বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় খরচ বেড়ে যায়। তাতে ডলারের চাহিদা বাড়তে থাকে। এর ফলে বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের মুদ্রা টাকার মানও ডলারের বিপরীতে কমতে থাকে। এছাড়া আগামী মাসেই হজযাত্রীরা সৌদি আরব যাবেন। ফলে ডলারের চাহিদা আরও বেড়েছে বাংলাদেশে।

দীর্ঘদিন ধরে মুদ্রা বিনিময় ব্যবসায় জড়িত গুলশান-১ এর মর্জিনা মানি চেঞ্জারের ব্যবস্থাপক মো. গোলাম ফারুক অপু। তিনি বলেন, দীর্ঘ ২১ বছরের অভিজ্ঞতায় এত দ্রুত ডলারের দাম বাড়তে দেখেননি।

গোলাম ফারুকের ভাষ্যমতে, ‘অতীতে দেখা গেছে, ডলারের দাম একবারে বেড়েছে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ পয়সা। এখন দেখছি ৫০ পয়সা করেও বাড়ছে। তাও আবার দিনের মধ্যে একাধিকবার। দর বাড়লেও মানুষ ডলার কেনা কমাচ্ছে না।

যমুনা মানি চেঞ্জারের মালিক আনিসুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ডলারের দাম বেশি। এর কারণ হচ্ছে বাজারে ডলারের সরবরাহ অনেক কম। কিন্তু সেই তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি। এ কারণেই দাম বেড়ে গেছে।

আনিসুজ্জামান বলেন, বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়লেই দাম কমে আসবে। বিদেশ থেকে পকেটে করে ডলার এলেই বাজারে ডলারের ওপর চাপ কমবে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ডলারের যে দর বেঁধে দেওয়া হয়েছিল তা মানছে না বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও। সর্বশেষ সোমবার (১৬ মে) ডলারের দাম ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা বেঁধে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু ব্যাংকে এলসি করতে গেলে ডলারের বিপরীতে নেওয়া হচ্ছে ৯২ থেকে ৯৩ টাকা। আবার কোনো কোনো ব্যাংক ৯৫/৯৬ টাকাও নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছেও এ ধরনের অভিযোগ এসেছে। তবে আমাদের রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি বেশি, এ কারণে ডলারের ওপর চাপ প‌ড়ে‌ছে। এ কারণে ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার সরবরাহ করছে। এখন পর্যন্ত ব্যাংকগু‌লোর চা‌হিদার বিপরী‌তে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিক্রি করা হয়েছে। যখনই প্রয়োজন আরও ডলার সরবরাহ করা হবে।

অনি/আওয়াজবিডি/ইউএস