যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল বিচারক পদে প্রথম বাংলাদেশি আমেরিকানকে মনোনয়ন

উত্তর আমেরিকা অফিস
২০ জানুয়ারি ২০২২, দুপুর ৪:৫১ সময়
নুসরাত চৌধুরী —ছবি: এসিএলইউ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন গতকাল বুধবার ফেডারেল জাজ হিসেবে নতুন আট বিচারককে মনোনয়ন দেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

নতুন ফেডারেল জাজ হিসেবে মনোনয়ন পাওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নারীর নাম নুসরাত চৌধুরী। তিনি বর্তমানে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) অব ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের আইনবিষয়ক পরিচালক পদে কর্মরত।

এসিএলইউতে ২০০৮ সাল থেকে কাজ করছেন নুসরাত। তিনি নিউইয়র্কের এসিএলইউতেও কাজ করেছেন।

নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টে ফেডারেল জাজ হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য নুসরাতকে মনোনয়ন দিয়েছেন বাইডেন।

নুসরাতের মনোনয়ন সিনেট অনুমোদন করলে তিনি হবেন দেশটিতে ফেডারেল বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া প্রথম বাংলাদেশি আমেরিকান।

একই সঙ্গে নুসরাত হবেন যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া প্রথম মুসলিম নারী।

আর মুসলিম ব্যক্তি হিসেবে নুসরাত হবেন দেশটির দ্বিতীয় ফেডারেল বিচারক। প্রথম মুসলিম ব্যক্তি হিসেবে দেশটিতে ফেডারেল জাজ হয়েছেন জাহিদ কোরেশি। তিনি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত আমেরিকান।

এক বছর আগে ক্ষমতায় আসার পর বাইডেন এখন পর্যন্ত ১৩ বারের মতো বিচারক মনোনয়ন দিলেন। সবশেষ ৮ জনকে নিয়ে তিনি মোট ৮৩ জন বিচারককে মনোনয়ন দিয়েছেন। তাঁর মনোনয়ন পাওয়া বিচারকদের মধ্যে অনেক নারী ও কৃষ্ণাঙ্গ রয়েছেন। নতুন মনোনয়ন দেওয়া আট বিচারকের মধ্যে সাতজনই নারী।

ইব্রাহিম/আওয়াজবিডি/ইউএস

গত বছরের চেয়ে এবার ডেঙ্গুরোগী পাঁচগুণ বেশি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আওয়াজবিডি ডেস্ক
২৯ মে ২০২৩, বিকাল ৬:১৫ সময়

মন্ত্রী বলেন, দেশে এবং আশপাশের দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের অধিদপ্তর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জানুয়ারি থেকে ২৮শে মে পর্যন্ত ১ হাজার ৭০৪ জন ডেঙ্গুরোগী পেয়েছি। এসময়ে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আমরা যদি গত বছরের তুলনা করি, এবছর রোগীর সংখ্যা প্রায় পাঁচগুণ। অর্থাৎ অনেক রোগী বৃদ্ধি পেয়েছে।

ডেঙ্গু রোধে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের হাসপাতালের পরিচালকদের সঙ্গে ডিজির (স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক) বৈঠক হয়েছে, হাসপাতালে যেন প্রস্তুতি থাকে।

আমাদের ডাক্তার-নার্সদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যে ডেঙ্গু সার্ভে, সেটি চলমান। রিপোর্ট দুই সিটি করপোরেশনকে দিয়েছি। মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে যেহেতু রোগী বাড়ছে, সেহেতু এ বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। ডেঙ্গুরোগীদের জন্য হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড এবং আলাদা কর্নার তৈরি করা হয়েছে। বছরখানেকের মধ্যে আমরা আড়াই হাজার ডাক্তার এবং নার্সকে ট্রেনিং দিয়েছি।

তিনি বলেন, জনগণকে সচেতন করার জন্য আমরা বিভিন্ন মহলকে যুক্ত করেছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক আছেন, ছাত্রছাত্রী আছেন, তাদের মাধ্যমে এটা প্রচার করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও যুক্ত করা হয়েছে, যারা জনগণকে সতর্ক করতে পারে, কীভাবে ডেঙ্গুরোগ থেকে বাঁচা যায়, মশার কামড় থেকে বাঁচা যায় এবং ডেঙ্গু হলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসা নেওয়া, এ বিষয়েও বলা।

এ বিষয়ে প্রচার-প্রচারণার জন্য পোস্টার, ব্যানার এবং টিভিতে বিজ্ঞাপন দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান জাহিদ মালেক। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় মিটিং আহ্বান করেছিল। সেখানে আমাদের প্রতিনিধি গেছে। জরুরি কোনো ব্যবস্থা যদি নিতে হয়, সেজন্য প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আপনাদের মাধ্যমে আমরা জনগণকে অবহিত করতে চাই যে, আপনারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিন। মানে বাসার আশপাশের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, নিজের ঘর স্প্রে করুন, আশপাশে যদি জঙ্গল থাকে সেখানে স্প্রে করুন এবং পানি বা যদি অন্যকিছু জমে থাকে সেগুলো সরিয়ে ফেলুন। এ কাজগুলো আমাদের নিজেদেরই করতে হবে। কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে এসে তাড়াতাড়ি চিকিৎসা নেবেন। সময় মতো চিকিৎসা নিলে প্রায় সবাই ভালো হয়ে যাচ্ছেন।

করোনা সংক্রমণ বাড়লেও ছড়ানোর আশঙ্কা নেই: এদিকে  সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সম্প্রতি বাড়লেও ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন । দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। অন্যদিকে সব বিধিনিষেধও উঠে গেছে, নতুন করে বিধিনিষেধ দেয়া হবে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমি জেনেভা থেকে এসেছি। সেখানে দেখলাম একটি লোকও মাস্ক পরেনি। সেখানে যে রোগী হচ্ছে না দু-একটা করে তা নয়। আমাদের এখানেও দু-একটি করে রোগী পাচ্ছি। ইদানিং কিছু বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে তেমন কোনো রোগী নেই। যেহেতু সবাই টিকা নিয়েছে সেজন্য মারাত্মক আকার ধারণ করছে না করোনা।

তিনি আরও বলেন, আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলবো, করোনা যেহেতু আছে আমাদের সতর্ক থাকাটা ভালো। যেখানে বেশি লোকের সমাগম হয় সেখানে মাস্ক পরতে পারলে ভালো। করোনা মোকাবিলার জন্য যে অভিজ্ঞতা আমরা সঞ্চয় করেছি, সেগুলো আমাদের মনে রাখা উচিত। কারণ যে কোনো সময় বাড়তেও পারে অতিরিক্ত, এখন সেরকম কোনো আশঙ্কা আমরা পাচ্ছি না।