ব্যক্তিগত হজ প্যাকেজ সাড়ে ৪ লাখ টাকার কম হতে পারবে না: হাব

আওয়াজবিডি ডেস্ক
১৩ মে ২০২২, দুপুর ১২:১৮ সময়

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের জন্য সাধারণ প্যাকেজ মূল্য নির্ধারণ করেছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৪৪ টাকা হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হজ)। ২০২০ সালের তুলনায় এটি প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার ১৫০ টাকা বেশি।

তবে এ প্যাকেজের মধ্যে কোরবানির খরচ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এজন্য প্রত্যেক হজযাত্রীকে আরও ১৯ হাজার ৬৮৩ টাকা ব্যয় করতে হবে।

বৃহস্পতিবার হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসেন তসলিম জানান, হজ এজেন্সিগুলো তাদের নিজস্ব 'বিশেষ হজ প্যাকেজ' ঘোষণা করতে পারবে। তবে, এরকম কোনো প্যাকেজের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম হতে পারবে না।

হাবের অধীনে রয়েছে প্রায় ১৫০০টি হজ এজেন্সি। ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে 'সাধারণ হজ প্যাকেজ' ঘোষণা করে তারা।

এর আগে বুধবার, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ন্যূনতম হজ প্যাকেজ প্রস্তাব করে ধর্ম মন্ত্রণালয়, এর মূল্য ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩০ টাকা।

তবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেসরকারি সংস্থাগুলো সরকারের ঘোষিত প্যাকেজ-১ এবং প্যাকেজ-২-এর মতো একাধিক প্যাকেজ দিতে পারবে।

হাব সভাপতি বলেন, তারা বিমান ভাড়া, সৌদি আরবে বাসস্থান, সার্ভিস চার্জ, মুয়াল্লেম ফি, জমজমের পানি, খাবারের খরচ এবং অন্যান্য ফি হিসাব করে সাধারণ হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, "বিমান ভাড়া মোট ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, বাড়ি ভাড়া ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৬ টাকা, সার্ভিস ও পরিবহন ব্যয় ৪২ হাজার ৬৩৫ টাকা, জমজম পানি ২৯২ টাকা, অন্যান্য সার্ভিস চার্জ ৬২ হাজার ২৩৬ টাকা, লাগেজ পরিবহন ৭২৯ টাকা, ভিসা ফি ৮ হাজার ৩৮৪ টাকা, ইনস্যুরেন্স ২ হাজার ৬৭৩ টাকা, স্থানীয় সার্ভিস চার্জ ১০০০, ক্যাম্প তহবিল ২০০ টাকা, প্রশিক্ষণ ৩০০, খাওয়া ৩২ হাজার টাকা, নিবন্ধন ২০০০ টাকা, মোনাজ্জেম খরচ ৪০০০, হজ গাইড খরচ ১০ হাজার ২৩৮ টাকা।"

প্রত্যেক হজযাত্রীকে সৌদি আরবের ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে কুরবানী কুপনের জন্য অতিরিক্ত ১৯ হাজার ৬৮৩ টাকা দিতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

"প্যাকেজের টাকা ১৮ মের মধ্যে জমা দিতে হবে। এজেন্সির ব্যাংক হিসাব অথবা টাকা জমা দেওয়ার রশিদ গ্রহণ করতে হবে। হজ ফ্লাইট পরিচালনায় ডেডিকেটেড ফ্লাইট পরিচালনা করতে হবে। তা না হলে সব হজ যাত্রীদের দেশে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না," বলেন শাহাদাত হোসেন।

তিনি আরও বলেন, মোট হজযাত্রীর মধ্যে ৪ হাজার সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করবেন এবং বাকিরা বেসরকারি সংস্থার অধীনে হজ করবেন।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী, এ বছর মোট ৫৭ হাজার ৫৮৫ বাংলাদেশি হজ করতে পারবেন। এ বছর ৮ জুলাই থেকে হজ শুরু হতে পারে। তবে, এটি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল।

ইব্রাহিম/আওয়াজবিডি/ইউএস

সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ, পানিবন্দি ১৫ লাখ মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
১৭ মে ২০২২, রাত ১০:৩৪ সময়

বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষদের আশ্রয় দিতে ১৯৯টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এছাড়া বন্যার্তদের মধ্যে ১২৯ মেট্রিক টন চাল ও এক হাজার বস্তা শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

গত মঙ্গলবার (১০ মে) রাত থেকেই সিলেটে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। এখনও তা চলমান। বুধবার (১১ মে) থেকেই সিলেটের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যেতে শুরু করে। বর্তমানে থেমে থেমে পানি বেড়ে সিলেটের বেশির ভাগ এলাকাই এখন ভাসছে বন্যায়। জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, জেলার ছয়টি উপজেলা বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া পানি উঠে গেছে নগরের বেশির ভাগ এলাকায়ও।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, সিলেটের উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে গত পাঁচ দিনে ১২৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অবিরাম বৃষ্টি ঝরছে সিলেটেও। ফলে দ্রুত বাড়ছে নদনদীর পানি। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি অমলসীদ ও কানাইঘাট পয়েন্টে প্রায় ১৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর সিলেট সদরে ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পানির তোড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যেই ভেঙে গেছে ২০টি নদীরক্ষা বাঁধ। এছাড়া কুশিয়ারা, সারি ও গোয়াইন নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাউবো সিলেটের উপসহকারী প্রকৌশলী নিলয় পাশা বলেন, ‘পানি এত বেশি আসছে যে, আমাদের বাঁধগুলো উপচে পড়ছে। কিছু কিছু জায়গায় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি অতিরিক্ত থাকায় আমরা সংস্কারকাজও করতে পারছি না।’

এদিকে, আবহাওয়া অধিদফতর সিলেটের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী ২৩ জুন পর্যন্ত সিলেটে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

মঙ্গলবার ৯১৭ মে) দিনভর সিলেট নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি মিনিটেই বাড়ছে পানি। নগরের অন্তত ২০টি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে এসব এলাকার সড়ক। বাসাবাড়ি, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সরকারি অফিসেও পানি উঠে গেছে। দুপুরে নগরের তালতলা এলাকার সড়কে হাঁটুর ওপরে পানি জমে গেছে। পানির কারণে সড়কজুড়ে ছিল দীর্ঘ যানজট। পানি ঢুকে কারও কারও গাড়িতে দেখা দিয়েছে ত্রুটি।

সিলেট জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে ১৯৯টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এ পর্যন্ত সিলেট জেলায় পানিবন্দি রয়েছেন ১৩ থেকে ১৫ লাখ মানুষ। সোমবার রাতে ১৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষ ছিল ৫০০ জন। মঙ্গলবার সকালে তারা চলে গেছে। এ পর্যন্ত আমরা ১২৯ মেট্রিক টন চাল ও এক হাজার বস্তা শুকনো খাবার বিতরণ করেছি।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান জানান, বন্যাকবলিতদের জন্য নগরে দুটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়া দুটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। নগরে শুকনো খাবার বিতরণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান বলেন, ‘প্লাবিত প্রতি উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বন্যাকবলিতদের প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।’