টুইটার কেনা স্থগিত করলেন ইলন মাস্ক

অনলাইন ডেস্ক
১৪ মে ২০২২, রাত ১:২৮ সময়

২৬৬ মিলিয়ন মনিটাইজযোগ্য ডেইলি অ্যাকটিভ ইউজারদের মধ্যে এই ভুয়া বা স্প্যাম অ্যাকাউন্টের পরিমাণ ৫ শতাংশেরও নিচে। রয়টার্সের বরাতে ৪৪ বিলিয়ন ডলার দিয়ে টুইটার কেনার ঘোষণা দিয়েছিলেন মাস্ক। এখন তিনি প্রতিষ্ঠানটির হিসাব দেখতে চাচ্ছেন।

একটি টুইট বার্তায় মাস্ক জানান, হিসেব থেকে যা দেখা যাচ্ছে যে পরিমাণ ব্যবহারকারী থাকার কথা ছিল বাস্তবে দেখা যাচ্ছে তার চেয়ে ৫ শতাংশ কম ব্যবহারকারী রয়েছে।

এদিকে এই খবর প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টুইটারের শেয়ার মূল্য ১৯ শতাংশ নেমে গিয়েছে। অপরদিকে টেসলার শেয়ার বেড়েছে ৫ শতাংশ। ইতোপূর্বেও টুইটারের হিসেবে সমস্যা ছিল। কয়েক সপ্তাহ আগেই জানা যায়, গত তিন বছর হলো ডেইলি ইউজার বেশি করে দেখানো হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো গণনায় উঠে আসছে।

ভার্জ জানায়, মাস্ক টুইটারের “স্প্যাম অ্যান্ড স্ক্যাম বটস” এবং “বট আর্মিজ” ফিচার দুটির খরচ কমিয়ে আনছেন। এর পরিবর্তে বাক-স্বাধীনতা এবং ওপেন সোর্সিংকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে এই স্থগিতাদেশের খবর থেকেই বুঝা যাচ্ছে মাস্কের টুইটার কেনার বিষয়টি সোশাল মিডিয়া নেটওয়ার্কে কতোটা প্রভাব ফেলেছিল বলে মন্তব্য করে ভার্জ।

খোলা বাজারে ডলারের দাম শতক ছাড়াল

অনলাইন ডেস্ক
১৭ মে ২০২২, রাত ১০:৩৯ সময়

মার্চের শুরুর দিকে খোলাবাজারে এক ডলার যেখানে বিক্রি হয়েছিল ৯০ টাকা দরে, দুই মাসের ব্যবধানে ডলারের সেই দাম শতক ছাড়িয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (১৭ মে) খোলাবাজারে প্রতি ডলার কিনতে গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০১ টাকা। আন্তঃব্যাংক ও খোলা বাজারে ডলারের বিনিময় হারের পার্থক্য এখন সাড়ে ১২ টাকার ওপরে, যা অতীতে আর দেখা যায়নি।

মতিঝিল ও পল্টনের মানি চেঞ্জারসহ খোলাবাজারে মঙ্গলবার (১৪ মে) মার্কিন ডলার ১০০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০১ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। যা আগের দিন সোমবার বিক্রি হয়েছে ৯৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৩০ পয়সায়। এতে বিপাকে পড়েছেন পর্যটক ও চিকিৎসার জন্য বিদেশগামীরা। ডলারের দাম কমাতে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার কারণে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকায় মানুষ দীর্ঘসময় দেশের বাইরে যাননি। কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদেশে যাওয়া প্রবণতা বেড়েছে। এর মধ্যে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হলে বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় খরচ বেড়ে যায়। তাতে ডলারের চাহিদা বাড়তে থাকে। এর ফলে বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের মুদ্রা টাকার মানও ডলারের বিপরীতে কমতে থাকে। এছাড়া আগামী মাসেই হজযাত্রীরা সৌদি আরব যাবেন। ফলে ডলারের চাহিদা আরও বেড়েছে বাংলাদেশে।

দীর্ঘদিন ধরে মুদ্রা বিনিময় ব্যবসায় জড়িত গুলশান-১ এর মর্জিনা মানি চেঞ্জারের ব্যবস্থাপক মো. গোলাম ফারুক অপু। তিনি বলেন, দীর্ঘ ২১ বছরের অভিজ্ঞতায় এত দ্রুত ডলারের দাম বাড়তে দেখেননি।

গোলাম ফারুকের ভাষ্যমতে, ‘অতীতে দেখা গেছে, ডলারের দাম একবারে বেড়েছে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ পয়সা। এখন দেখছি ৫০ পয়সা করেও বাড়ছে। তাও আবার দিনের মধ্যে একাধিকবার। দর বাড়লেও মানুষ ডলার কেনা কমাচ্ছে না।

যমুনা মানি চেঞ্জারের মালিক আনিসুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ডলারের দাম বেশি। এর কারণ হচ্ছে বাজারে ডলারের সরবরাহ অনেক কম। কিন্তু সেই তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি। এ কারণেই দাম বেড়ে গেছে।

আনিসুজ্জামান বলেন, বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়লেই দাম কমে আসবে। বিদেশ থেকে পকেটে করে ডলার এলেই বাজারে ডলারের ওপর চাপ কমবে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ডলারের যে দর বেঁধে দেওয়া হয়েছিল তা মানছে না বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও। সর্বশেষ সোমবার (১৬ মে) ডলারের দাম ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা বেঁধে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু ব্যাংকে এলসি করতে গেলে ডলারের বিপরীতে নেওয়া হচ্ছে ৯২ থেকে ৯৩ টাকা। আবার কোনো কোনো ব্যাংক ৯৫/৯৬ টাকাও নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছেও এ ধরনের অভিযোগ এসেছে। তবে আমাদের রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি বেশি, এ কারণে ডলারের ওপর চাপ প‌ড়ে‌ছে। এ কারণে ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার সরবরাহ করছে। এখন পর্যন্ত ব্যাংকগু‌লোর চা‌হিদার বিপরী‌তে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিক্রি করা হয়েছে। যখনই প্রয়োজন আরও ডলার সরবরাহ করা হবে।

অনি/আওয়াজবিডি/ইউএস