অপরাজিতর মতো ছবি বানাতে সাহস লাগে!

আওয়াজবিডি ডেস্ক
১৪ মে ২০২২, সকাল ৯:৩৫ সময়

সত্যজিৎ রায়ের তৈরি ‘পথের পাঁচালী’ ছবি নির্মাণের নেপথ্যের কথা উঠে এসেছে এ ছবিতে। ছবিতে সত্যজিতের স্ত্রী বিজয়া রায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সায়নী ঘোষ।

ছবিটি বড় পর্দায় মুক্তি পেয়েছে শুক্রবার। তার ঠিক আগে একটি লম্বা পোস্ট করেছেন সায়নী। ছবি নিয়ে মানুষের মধ্যে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তার প্রতিক্রিয়াও দিয়েছেন এ অভিনেত্রী। সায়নী লিখছেন, ‘অপরাজিত সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ এবং উত্তেজনা নজর কাড়া।। ছবিটি আজকে রিলিজ করছে এবং ইতোমধ্যেই ৪০ শতাংয় প্রি-বুকিং শুরু হয়েছে। মানিক বাবুর পথের পাঁচালী বানাতে যা সময় বা কষ্ট বা ধৈর্য লেগেছিল, সেই তুলনায় কম হলেও অপরাজিত ছবি বানাতে স্পট বয় থেকে শুরু করে প্রোডিউসার সবার ই কাল ঘাম ছুটে গেছে।’

অভিনেত্রী লিখছেন, ‘লজিস্টিকসের সমস্যা, অনসম্বল কাস্টিং, চ্যালেঞ্জিং ওয়েদার কন্ডিশান, লোকেশনের সমস্যা এত কিছুর মধ্যেও প্রডিউসার ফিরদৌসুল হাসান এবং পরিচালক অনীক দত্ত ছবিটাকে নিখুঁতভাবে তৈরি করেছেন। অনিক দার সঙ্গে সেই সর্ষে বাটার বিজ্ঞাপন থেকে আলাপ। মাঝেও আর একটা ছবি। আর প্রডিউসারের সঙ্গে সেই নাটকের মতো থেকে। বরাবরই কাজের ক্ষেত্রে একটা দারুণ আন্ডারস্ট্যান্ডিং এবং কমফোর্ট জোন কাজ করে।’

অনীক দত্তের ছবিতে কাজ করা নিয়ে সায়নী লিখেছেন, ‘অনিক দত্তর ছবি নিয়ে প্রায় এক বছর পর শ্যুটিং ফ্লোর এবং বড় পর্দায় ফেরা যেকোনো অভিনেতার কাছে একটি বিশেষ প্রাপ্তি। ওনার সঙ্গে কাজ করা যেকোনো কলাকুশলীর কাছে একটা ইন্টার্নশিপের থেকে কম কিছু না। প্রত্যেক বার অনীক দত্তর ছবিতে কাজ করে নতুন কিছু শিখি এবং চেষ্টা করি সেই শিক্ষা টাকে পরবর্তী ছবিতে কাজে লাগাতে। আশা করছি সব কিছুকে সঙ্গে নিয়ে বা সব কিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে আগামী দিনেও অনেক অর্থপূর্ণ কাজ আমরা একসঙ্গে করতে পারবো।’

সত্যজিৎ রায়ের চরিত্রে জিতুর অভিনয় নিয়ে সায়নী বলেছেন, ‘মানিক বাবুর চরিত্রে জিতু কমল একটি বিশেষ পাওনা। ছবিটা দেখতে দেখতে আমাদের কিছু জায়গাতে আপনাদের সত্যি মনে হবে আপনারা সত্যজিৎ রায় কেই দেখছেন। প্রত্যেকটি কলাকুশলী মিলিয়ে ছবিটা যে যত্ন সহকারে বানিয়েছেন, এই ছবিটার নির্দ্বিধায় হল ভর্তি দর্শক প্রাপ্য।’

একসঙ্গে মুক্তি পাচ্ছে একাধিক ছবি, সে প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন সায়নী। তিনি লেখেন, ‘বাংলায় অনেক বাংলা ছবি একসঙ্গে রিলিজ হয়, সেটার ভালো দিক যেমন আছে, কিছু অসুবিধেও রয়েছে। সেই নিয়ে না হয় পরে কথা হবে। তবে আজ অপরাজিত মুক্তি পাচ্ছে, এত গ্ল্যামারাস, অ্যাকশনবেসড, থ্রিলার, রম কম এর মধ্যে আমাদের ছবিটি একটি নিপাট সহজ সরল ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট ছবি। কিংবদন্তির প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধার্ঘ। প্রত্যেকটি বাংলা ছবি হলে গিয়ে দেখুন। আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকে সাপোর্ট করুন। অপরাজিতর মতো ছবি বানানোর সাহস বা দুঃসাহসিকতা যে প্রত্যেক পরিচালকরা দেখান, তাদের পাশে থাকুন। ছবিটা দেখে ভালো লাগলে অন্যদের দেখতে বলুন। এই ছবি বিদেশে নানান জায়গায় ডাক পাচ্ছে। মানুষের ভালো লাগছে। কিন্তু নিজের দেশের নিজের রাজ্যের দর্শকদের মতামত, তাদের প্রশংসা বা সমালোচনা সবটারই একটা আলাদা স্বাদ এবং গুরুত্ব থাকে। মানিক বাবুর কাছেও ছিল। অনীক বাবুর কাছেও আছে। আশা রাখলাম ছবিটা আপনারা সপরিবারে হলে গিয়ে দেখবেন। বাংলা সিনেমা সমৃদ্ধ হোক। বাংলা অডিয়েন্স দীর্ঘজীবী হোক।’

ইব্রাহিম/আওয়াজবিডি/ইউএস

কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সে থাকা গম রপ্তানি করবে ভারত

অনলাইন ডেস্ক
১৮ মে ২০২২, রাত ১২:২০ সময়

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে মঙ্গলবার এ কথা বলা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, যেসব গম কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে পরীক্ষার জন্য এবং ১৩ই মের আগে বা ওইদিন তাদের কাছে নিবন্ধিত হয়েছে, সেইসব গমের শিপমেন্ট অনুমোদনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মিশর সরকারের এক অনুরোধের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার মিশরে গমের চালান পাঠাতে অনুমোদন দিয়েছে। এই চালানের গম এরই মধ্যে কান্দলা বন্দরে লোড করা হচ্ছে।

আকস্মিক গত রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত সরকার। এর ফলে বিভিন্ন বন্দরের বাইরে গমভর্তি হাজার হাজার ট্রাক অবস্থান করছে। দেশের ভিতরে দাম বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ১৩ই মে সরকার গম রপ্তানি নিষিদ্ধ করে। এ বিষয়ে একটি নোটিফিকেশন জারি করেছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি)

এতে বলা হয়েছে, দেশে সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষা করতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রয়োজনে সাপোর্ট দিতে এবং অন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই নোটিফিকেশনে আরও বলা হয়েছে, বেসরকারি ব্যবসায়ীরা ‘লেটার অব ক্রেডিটের’ মাধ্যমে আগেভাগে যেসব প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এইসব বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না। অন্য দেশের অনুরোধের প্রেক্ষিতেও সরকার রপ্তানি অনুমোদন দেবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ তিনটি প্রধান কারণে দেয়া হয়েছে। তা হলো, ভারতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলা করা, অন্য দেশগুলো যারা খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলা করছে তাদেরকে সহায়তা করা এবং ভারতের একটি নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারীর মর্যাদা রক্ষা করা।

অনি/আওয়াজবিডি/ইউএস