প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে প্রেম, ছাত্রীকে নিয়ে পালালেন শিক্ষক

আওয়াজবিডি ডেস্ক
১৪ মে ২০২২, দুপুর ১১:২৬ সময়

শনিবার (১৪ মে) সকালে নতুন ভারেঙ্গা একাডেমী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজার রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক হাসমত হোসেন উপজেলার নতুনভারেঙ্গা ইউনিয়নের বাটিয়াখড়া গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে। তিনি ঐতিহ্যবাহী ভারেঙ্গা একাডেমীর সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

স্কুল সূত্রে জানা গেছে, ভারেঙ্গা একাডেমীর সহকারী শিক্ষক হাসমত হোসেন ওই ছাত্রীকে তার বাড়িতে গিয়ে প্রাইভেট পড়াতেন। প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সোমবার ওই ছাত্রী স্কুলে যায়। তবে স্কুল ছুটির পর সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। তার অভিভাবকরা দুদিন ধরে খোঁজাখুঁজি করেনও সন্ধান পাননি।

পরে ওই ছাত্রীর সহপাঠীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিভাবকরা গৃহশিক্ষক হাসমত হোসেনের কাছে ফোন করেন। তিনি ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং তাকে বিয়ে করেছেন বলে জানান। এ ঘটনায় বুধবার ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে বেড়া মডেল থানায় অভিযোগ করেন।

ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘হাসমতকে আমি অনেক বিশ্বাস করতাম। তার কাছে আমার মেয়ে প্রাইভেট পড়ত। কিন্তু সে এত বড় প্রতারক, তা জানতাম না।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক হাসমত হোসেন সাত বছর আগে বেড়ার বাটিয়াখড়া গ্রামের মৃত হিরা মিঞার মেয়ে খাদিজা খাতুনকে বিয়ে করেন। তাদের দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

ভারেঙ্গা একাডেমীর প্রধান শিক্ষক মাহফুজার রহমান বলেন, ‘প্রায় এক যুগ ধরে হাসমত স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। আগে কখনো এমন আচরণ তার মধ্যে লক্ষ্য করিনি। তিনি এমন ন্যাক্কারজনক কাজ করেছেন আমরাও সামাজিকভাবে লজ্জার মধ্যে পড়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে পুলিশ ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের কথা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে স্কুল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।’

বেড়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার বলেন, ‘আমাদের কাছেও অভিযোগ এসেছে। ওই ছাত্রীকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’

ইব্রাহিম/আওয়াজবিডি/ইউএস

খোলা বাজারে ডলারের দাম শতক ছাড়াল

অনলাইন ডেস্ক
১৭ মে ২০২২, রাত ১০:৩৯ সময়

মার্চের শুরুর দিকে খোলাবাজারে এক ডলার যেখানে বিক্রি হয়েছিল ৯০ টাকা দরে, দুই মাসের ব্যবধানে ডলারের সেই দাম শতক ছাড়িয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (১৭ মে) খোলাবাজারে প্রতি ডলার কিনতে গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০১ টাকা। আন্তঃব্যাংক ও খোলা বাজারে ডলারের বিনিময় হারের পার্থক্য এখন সাড়ে ১২ টাকার ওপরে, যা অতীতে আর দেখা যায়নি।

মতিঝিল ও পল্টনের মানি চেঞ্জারসহ খোলাবাজারে মঙ্গলবার (১৪ মে) মার্কিন ডলার ১০০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০১ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। যা আগের দিন সোমবার বিক্রি হয়েছে ৯৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৩০ পয়সায়। এতে বিপাকে পড়েছেন পর্যটক ও চিকিৎসার জন্য বিদেশগামীরা। ডলারের দাম কমাতে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার কারণে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকায় মানুষ দীর্ঘসময় দেশের বাইরে যাননি। কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদেশে যাওয়া প্রবণতা বেড়েছে। এর মধ্যে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হলে বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় খরচ বেড়ে যায়। তাতে ডলারের চাহিদা বাড়তে থাকে। এর ফলে বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের মুদ্রা টাকার মানও ডলারের বিপরীতে কমতে থাকে। এছাড়া আগামী মাসেই হজযাত্রীরা সৌদি আরব যাবেন। ফলে ডলারের চাহিদা আরও বেড়েছে বাংলাদেশে।

দীর্ঘদিন ধরে মুদ্রা বিনিময় ব্যবসায় জড়িত গুলশান-১ এর মর্জিনা মানি চেঞ্জারের ব্যবস্থাপক মো. গোলাম ফারুক অপু। তিনি বলেন, দীর্ঘ ২১ বছরের অভিজ্ঞতায় এত দ্রুত ডলারের দাম বাড়তে দেখেননি।

গোলাম ফারুকের ভাষ্যমতে, ‘অতীতে দেখা গেছে, ডলারের দাম একবারে বেড়েছে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ পয়সা। এখন দেখছি ৫০ পয়সা করেও বাড়ছে। তাও আবার দিনের মধ্যে একাধিকবার। দর বাড়লেও মানুষ ডলার কেনা কমাচ্ছে না।

যমুনা মানি চেঞ্জারের মালিক আনিসুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ডলারের দাম বেশি। এর কারণ হচ্ছে বাজারে ডলারের সরবরাহ অনেক কম। কিন্তু সেই তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি। এ কারণেই দাম বেড়ে গেছে।

আনিসুজ্জামান বলেন, বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়লেই দাম কমে আসবে। বিদেশ থেকে পকেটে করে ডলার এলেই বাজারে ডলারের ওপর চাপ কমবে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ডলারের যে দর বেঁধে দেওয়া হয়েছিল তা মানছে না বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও। সর্বশেষ সোমবার (১৬ মে) ডলারের দাম ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা বেঁধে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু ব্যাংকে এলসি করতে গেলে ডলারের বিপরীতে নেওয়া হচ্ছে ৯২ থেকে ৯৩ টাকা। আবার কোনো কোনো ব্যাংক ৯৫/৯৬ টাকাও নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছেও এ ধরনের অভিযোগ এসেছে। তবে আমাদের রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি বেশি, এ কারণে ডলারের ওপর চাপ প‌ড়ে‌ছে। এ কারণে ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার সরবরাহ করছে। এখন পর্যন্ত ব্যাংকগু‌লোর চা‌হিদার বিপরী‌তে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিক্রি করা হয়েছে। যখনই প্রয়োজন আরও ডলার সরবরাহ করা হবে।

অনি/আওয়াজবিডি/ইউএস