লা ফিনালিসিমা

তাকে নিয়ে দড়ি–টানাটানি ইতালি–আর্জেন্টিনার

স্পোর্টস ডেস্ক
১৪ মে ২০২২, দুপুর ১১:৫৫ সময়

আর্জেন্টিনার অন্যতম প্রতিভাবান সেন্টারব্যাক মানা হয় মার্কোস সেনেসিকে। সান লরেঞ্জোতে নাম কামিয়ে ২০১৯ সালে যোগ দেন ডাচ্‌ ক্লাব ফেইনুর্দে। আর্জেন্টাইন হলেও ইতালিয়ান পাসপোর্টধারী হওয়ায় ইউরোপের দলটির হয়েও খেলার যোগ্যতা আছে তার।

এই বাড়তি যোগ্যতাই অনন্য এক ঘটনার সামনে দাড় করিয়ে দিচ্ছে তাকে। এখনো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেক না হওয়া এই ডিফেন্ডারকে গত বছর কোপা আমেরিকাজয়ী আর্জেন্টিনা ও ইউরোজয়ী ইতালিকে নিয়ে আয়োজিত হতে যাওয়া ‘লা ফিনালিসিমা’ ম্যাচে দুই দেশই দলে ডেকেছে।

আর্জেন্টিনা এর মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই ম্যাচের জন্য ৩০ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। সেখানে জ্বলজ্বল করছে সেনেসির নাম। ইতালি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্কোয়াড ঘোষণা না করলেও দেশটার গণমাধ্যমগুলোর দাবি, রবার্তো মানচিনির দলেও আছেন এই ২৫ বছর বয়সী।

২০২০ সালে আর্জেন্টিনার প্রাথমিক স্কোয়াডে একবার ডাক পেলেও চূড়ান্ত স্কোয়াডে কখনো ডাক পাননি, অভিষেক তো দূরের কথা। হয়তো বুঝেছেন, রোমেরো-ওতামেন্দি কিংবা লিসান্দ্রো মার্তিনেজদের সরিয়ে আর্জেন্টিনার মূল দলের হয়ে খেলার স্বপ্নটা স্বপ্নই থেকে যাবে। সে কারণেই কি না, ইতালির পাসপোর্ট জোগাড় করে দেশটার হয়ে খেলার জন্য আগে থেকেই সুযোগ করে রেখেছেন।

মজার ব্যাপার হলো, এখন আবারও আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার সুযোগ এসেছে সেনেসির সামনে। সিদ্ধান্ত এখন সেনেসির। মানচিনি না স্কালোনি, কার প্রস্তাব গ্রহণ করবেন, সেটাই দেখার বিষয়।

প্রাথমিক স্কোয়াডে সেনেসি ছাড়াও চমক জাগিয়েছে লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর থাকা। দুজনই চোটে আক্রান্ত, বাকি মৌসুমে নিজ নিজ দল পিএসজি আর টটেনহামের হয়ে খেলা হবে না দুজনের। তাও তাদের প্রাথমিক স্কোয়াডে রেখেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। এক বছর পর দলে ফিরেছেন বায়ার লেভারকুসেনে খেলা স্ট্রাইকার লুকাস আলারিও।

ইব্রাহিম/আওয়াজবিডি/ইউএস

খোলা বাজারে ডলারের দাম শতক ছাড়াল

অনলাইন ডেস্ক
১৭ মে ২০২২, রাত ১০:৩৯ সময়

মার্চের শুরুর দিকে খোলাবাজারে এক ডলার যেখানে বিক্রি হয়েছিল ৯০ টাকা দরে, দুই মাসের ব্যবধানে ডলারের সেই দাম শতক ছাড়িয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (১৭ মে) খোলাবাজারে প্রতি ডলার কিনতে গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০১ টাকা। আন্তঃব্যাংক ও খোলা বাজারে ডলারের বিনিময় হারের পার্থক্য এখন সাড়ে ১২ টাকার ওপরে, যা অতীতে আর দেখা যায়নি।

মতিঝিল ও পল্টনের মানি চেঞ্জারসহ খোলাবাজারে মঙ্গলবার (১৪ মে) মার্কিন ডলার ১০০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০১ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। যা আগের দিন সোমবার বিক্রি হয়েছে ৯৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৩০ পয়সায়। এতে বিপাকে পড়েছেন পর্যটক ও চিকিৎসার জন্য বিদেশগামীরা। ডলারের দাম কমাতে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার কারণে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকায় মানুষ দীর্ঘসময় দেশের বাইরে যাননি। কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদেশে যাওয়া প্রবণতা বেড়েছে। এর মধ্যে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হলে বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় খরচ বেড়ে যায়। তাতে ডলারের চাহিদা বাড়তে থাকে। এর ফলে বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের মুদ্রা টাকার মানও ডলারের বিপরীতে কমতে থাকে। এছাড়া আগামী মাসেই হজযাত্রীরা সৌদি আরব যাবেন। ফলে ডলারের চাহিদা আরও বেড়েছে বাংলাদেশে।

দীর্ঘদিন ধরে মুদ্রা বিনিময় ব্যবসায় জড়িত গুলশান-১ এর মর্জিনা মানি চেঞ্জারের ব্যবস্থাপক মো. গোলাম ফারুক অপু। তিনি বলেন, দীর্ঘ ২১ বছরের অভিজ্ঞতায় এত দ্রুত ডলারের দাম বাড়তে দেখেননি।

গোলাম ফারুকের ভাষ্যমতে, ‘অতীতে দেখা গেছে, ডলারের দাম একবারে বেড়েছে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ পয়সা। এখন দেখছি ৫০ পয়সা করেও বাড়ছে। তাও আবার দিনের মধ্যে একাধিকবার। দর বাড়লেও মানুষ ডলার কেনা কমাচ্ছে না।

যমুনা মানি চেঞ্জারের মালিক আনিসুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ডলারের দাম বেশি। এর কারণ হচ্ছে বাজারে ডলারের সরবরাহ অনেক কম। কিন্তু সেই তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি। এ কারণেই দাম বেড়ে গেছে।

আনিসুজ্জামান বলেন, বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়লেই দাম কমে আসবে। বিদেশ থেকে পকেটে করে ডলার এলেই বাজারে ডলারের ওপর চাপ কমবে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ডলারের যে দর বেঁধে দেওয়া হয়েছিল তা মানছে না বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও। সর্বশেষ সোমবার (১৬ মে) ডলারের দাম ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা বেঁধে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু ব্যাংকে এলসি করতে গেলে ডলারের বিপরীতে নেওয়া হচ্ছে ৯২ থেকে ৯৩ টাকা। আবার কোনো কোনো ব্যাংক ৯৫/৯৬ টাকাও নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছেও এ ধরনের অভিযোগ এসেছে। তবে আমাদের রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি বেশি, এ কারণে ডলারের ওপর চাপ প‌ড়ে‌ছে। এ কারণে ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার সরবরাহ করছে। এখন পর্যন্ত ব্যাংকগু‌লোর চা‌হিদার বিপরী‌তে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিক্রি করা হয়েছে। যখনই প্রয়োজন আরও ডলার সরবরাহ করা হবে।

অনি/আওয়াজবিডি/ইউএস