ভোরের অন্ধকারে বিয়ার ডেলিভারি দিতেন মিজান

আওয়াজবিডি ডেস্ক
১৪ মে ২০২২, দুপুর ৩:১২ সময়

র‍্যাব-১ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া অফিসার) সহকারী পুলিশ সুপার নোমান আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, শনিবার (১৪ মে) র‍্যাব-১ এর একটি দল জানতে পারে, অজ্ঞাত মাদক কারবারি গুলশান-২ ডিএনসিসি মার্কেট এলাকার নির্মাণাধীন ইকবাল টাওয়ারের সামনে নিষিদ্ধ মাদক বিয়ার বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।

পরে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সেখান থেকে মিজানুর রহমান সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ১ হাজার ১৯৫ ক্যান বিয়ার, একটি প্রাইভেটকার, একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব-১ এর এ কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতার মিজানুর চাঁদপুর মতলবের ছেংগাচর পৌর এলাকার ঠাকুরচরের আব্দুল রাজ্জাক ব্যাপারীর ছেলে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিজানুর র‍্যাবকে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত তিনি। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে হলেও তিনি থাকেন গাজীপুর বোর্ড বাজার এলাকায়।

দীর্ঘদিন ধরে ভোরের অন্ধকারে মিজানুর অবৈধ মাদক বিয়ার ঢাকার গুলশানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল। মাদক আইনে মামলা দায়ের করে জব্দ করা বিয়ার ও মিজানুরকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ইব্রাহিম/আওয়াজবিডি/ইউএস

সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ, পানিবন্দি ১৫ লাখ মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
১৭ মে ২০২২, রাত ১০:৩৪ সময়

বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষদের আশ্রয় দিতে ১৯৯টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এছাড়া বন্যার্তদের মধ্যে ১২৯ মেট্রিক টন চাল ও এক হাজার বস্তা শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

গত মঙ্গলবার (১০ মে) রাত থেকেই সিলেটে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। এখনও তা চলমান। বুধবার (১১ মে) থেকেই সিলেটের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যেতে শুরু করে। বর্তমানে থেমে থেমে পানি বেড়ে সিলেটের বেশির ভাগ এলাকাই এখন ভাসছে বন্যায়। জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, জেলার ছয়টি উপজেলা বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া পানি উঠে গেছে নগরের বেশির ভাগ এলাকায়ও।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, সিলেটের উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে গত পাঁচ দিনে ১২৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অবিরাম বৃষ্টি ঝরছে সিলেটেও। ফলে দ্রুত বাড়ছে নদনদীর পানি। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি অমলসীদ ও কানাইঘাট পয়েন্টে প্রায় ১৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর সিলেট সদরে ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পানির তোড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যেই ভেঙে গেছে ২০টি নদীরক্ষা বাঁধ। এছাড়া কুশিয়ারা, সারি ও গোয়াইন নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাউবো সিলেটের উপসহকারী প্রকৌশলী নিলয় পাশা বলেন, ‘পানি এত বেশি আসছে যে, আমাদের বাঁধগুলো উপচে পড়ছে। কিছু কিছু জায়গায় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি অতিরিক্ত থাকায় আমরা সংস্কারকাজও করতে পারছি না।’

এদিকে, আবহাওয়া অধিদফতর সিলেটের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী ২৩ জুন পর্যন্ত সিলেটে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

মঙ্গলবার ৯১৭ মে) দিনভর সিলেট নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি মিনিটেই বাড়ছে পানি। নগরের অন্তত ২০টি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে এসব এলাকার সড়ক। বাসাবাড়ি, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সরকারি অফিসেও পানি উঠে গেছে। দুপুরে নগরের তালতলা এলাকার সড়কে হাঁটুর ওপরে পানি জমে গেছে। পানির কারণে সড়কজুড়ে ছিল দীর্ঘ যানজট। পানি ঢুকে কারও কারও গাড়িতে দেখা দিয়েছে ত্রুটি।

সিলেট জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে ১৯৯টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এ পর্যন্ত সিলেট জেলায় পানিবন্দি রয়েছেন ১৩ থেকে ১৫ লাখ মানুষ। সোমবার রাতে ১৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষ ছিল ৫০০ জন। মঙ্গলবার সকালে তারা চলে গেছে। এ পর্যন্ত আমরা ১২৯ মেট্রিক টন চাল ও এক হাজার বস্তা শুকনো খাবার বিতরণ করেছি।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান জানান, বন্যাকবলিতদের জন্য নগরে দুটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়া দুটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। নগরে শুকনো খাবার বিতরণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান বলেন, ‘প্লাবিত প্রতি উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বন্যাকবলিতদের প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।’