ভারতে গ্রেফতার পি কে হালদার

অনলাইন ডেস্ক
১৪ মে ২০২২, বিকাল ৬:১৬ সময়

পি কে হালদার পশ্চিমবঙ্গের অশোকনগরের একটি বাড়িতে নাম পাল্টে থাকতেন - এমনটাই দাবি দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার।

পি কে হালদারের খোঁজে অশোকনগরের এই বাড়িতে অভিযান চালায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা

শুক্রবার কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার অন্তত ৯টি স্থানে অভিযান চালায় ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। হুন্ডির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো অবৈধ টাকায় পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গায় সম্পত্তি কেনার অভিযোগ রয়েছে পি কে’র বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শিবশঙ্কর হালদার নামে ভুয়া পরিচয়ে পালিয়ে ছিলেন প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদার। তিনি শিবশঙ্কর পরিচয়ে পশ্চিমবঙ্গে রেশন কার্ড, ভারতীয় ভোটার আইডি কার্ড, প্যান ও আধার কার্ড জোগাড় করেছিলেন। 

শুক্রবার (১৩ মে) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ভারতের ডিরেক্টরেট অব এনফোর্সমেন্ট (ইডি) জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে প্রশান্ত কুমার হালদার, প্রিতিশ কুমার হালদার, প্রানেশ কুমার হালদার ও তাদের সহযোগীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত সম্পদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া পি কে হালদার ভুয়া পরিচয়ে ভারতে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছিলেন। তিনি কলকাতা মহানগরীর অভিজাত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সম্পত্তি কিনেছেন। তার নামে-বেনামে সম্পত্তির খোঁজে ১০টি জায়গায় তল্লাশি চলছে।

প্রশান্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নানা কৌশলে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কেনেন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে নিজের আত্মীয়, বন্ধু ও সাবেক সহকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে পর্ষদে বসিয়ে অন্তত চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন। এসব কোম্পানি থেকে তিনি ঋণের নামে বিপুল অংকের টাকা বিদেশে পাচার করেছেন।

প্রসঙ্গত, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাবড়া অশোকনগর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাছ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিল পি কে হালদারের সহযোগী সুকুমার মৃধা। শুক্রবার আর্থিক দুর্নীতির খোঁজে তল্লাশি চালাতে গিয়ে উঠে আসে প্রকৃত রহস্য।

জানা যায়, পি কে হালদার অর্থাৎ প্রশান্ত কুমার হালদার এবং সুকুমার মৃধা প্রকৃতপক্ষে অশোকনগরের দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী। এতেই ইডির কাছে প্রায় স্পষ্ট দু’জনের দীর্ঘদিনের যোগসাজশেই এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এই বিপুল আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে।  

ওই অঞ্চলে পি কে হালদারের নবজীবন পল্লীতে সুবিশাল বিলাসবহুল বাগানবাড়ি আছে। ঠিক তার পাশেই আছে সুকুমার মৃধার আরেক বিলাসবহুল বাগান বাড়ি। সুকুমার একজন মাছ ব্যবসায়ী হিসেবে সেখানে পরিচিত হলেও তার আর্থিক সঙ্গতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন ছিল এলাকাবাসীর মধ্যে।

ইডি’র তদন্তে জানা যায়, শুধুমাত্র অশোকনগরে একাধিক সম্পত্তি কিনেছে পি কে এবং সুকুমার। এদিন অশোকনগরের ৩টি বাড়িতে একযোগে তল্লাশি শুরু করে ইডি। যার একটিতে থাকতেন সুকুমার মৃধার মেয়ে অনিন্দিতার জামাই। তাকে জেরা করেছে ইডি।  

অন্যদিকে, অশোকনগরের বিলাসবহুল বাড়িতে পি কে হালদারের আত্মীয় প্রণব কুমার হালদার ও তার দুই ছেলে মিঠুন হালদার ও বিশ্বজিৎ হালদারকেও জেরা শুরু করেছে ইডি।

স্থানীয়রা জানতেন, প্রণব কুমার হালদার ছিলেন সরকারি কর্মচারী। তার বড় ছেলে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত এবং ছোট ছেলে মিঠুন হালদার বিএসএফ জওয়ান হিসেবে কর্মরত। আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির দিকে তারাও ছিল ইডির নজরে।  

তাদের চারবিঘা জমির উপর বিলাসবহুল বাড়িটির কারণে এলাকাবাসীর মনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এনআরবি গ্লোবালের বেআইনি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে ঢুকেছে বলে ইডির অনুমান।  

সূত্রের খবর, কলকাতা ছাড়াও দিল্লী, মুম্বাই এবং ভারতের অন্যান্য শহরেও পি কে এবং সুকুমার জুটির বিনিয়োগ আছে বলে অনুমান করছে ইডি। আপাতত পি কে এবং সুকুমার- দুই পরিবারকে জেরা করে সেই সম্পত্তির হদিস খুঁজছে ভারতের অর্থ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় এই সংস্থা।

এ ছাড়া, অশোকনগরের গণ্ডি ছাড়িয়ে কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন এলাকা, কলকাতা সংলগ্ন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অভিজাত এলাকায় একাধিক বাড়ি ও অফিস রয়েছে এই যুগলের।  

কলকাতায় যেভাবে এই জুটির বেআইনি সম্পত্তির হদিস পেয়েছে ইডি- তাতে বলা যায়, এনআরবি গ্লোবাল কাণ্ডে পাচারের বড় টাকার হদিসই মিলছে। তবে এই সম্পত্তি ক্রয়ের টাকা কোন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফিরবে সেটি এখন দেখার বিষয়।

এর আগে ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি পি কে হালদারের বিরুদ্ধে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পলাতক পি কে হালদার নিজের নামে বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে এবং বিভিন্ন আসল ও ভুয়া কোম্পানি ও ব্যক্তির নামে প্রায় ৪২৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

অবৈধ সম্পদের অবস্থান গোপন করতে ১৭৮টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করেন পি কে হালদার। এসব অ্যাকাউন্টে তিনি ৬ হাজার ৮০ কোটি টাকা জমা রাখেন এবং নিজ নামে ও বেনামে ৬ হাজার ৭৬ কোটি টাকা উত্তোলন করেন।

দুদকের তথ্যানুসারে, পি কে হালদার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অন্তত ১১ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

দুদক সূত্র জানায়, তদন্তে তারা এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ আত্মসাৎ করার কথা জানতে পেরেছে, সেই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

পি কে হালদার আইএলএফএসএল থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা, এফএএস ফাইন্যান্স থেকে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা এবং পিপলস লিজিং থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এসব ঋণের বিপরীতে বলতে গেলে কোনো বন্ধকই নেই। তাই ঋণ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে জানিয়েছে দুদক।

তদন্ত শেষে দুদক ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি মামলা করেছে।

ছাত্রলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা

আওয়াজবিডি ডেস্ক
৩ জুলাই ২০২২, রাত ১০:১৯ সময়

কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল উদ্দিনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খুরুশকুলের ডেইলপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

২৬ বছর বয়সী ফয়সাল উদ্দিন ওই ইউনিয়নের কাউয়ারপাড়া এলাকার লাল মোহাম্মদের ছেলে। তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মাহমুদুল করিম মাদু বলেন, ‘বিকেলে খুরুশকুল ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন ছিল। সম্মেলন শেষে সন্ধ্যায় সবাই ফিরছিলেন। ডেইলপাড়া এলাকার আজিজ সিকদার ও জহিরের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত ফয়সাল উদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গুলি করে পালিয়ে যায়। তাকে স্থানীয়রা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

ওই হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার আশিকুর রহমান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। আহত দুজনকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. সেলিম উদ্দিন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।

পুলিশ এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে বলে জানান তিনি।

ইব্রাহিম/আওয়াজবিডি/ইউএস