গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন সাবেক অজি তারকা সাইমন্ডস

আওয়াজবিডি ডেস্ক
১৫ মে ২০২২, সকাল ৬:৩৮ সময়

স্থানীয় সময় শনিবার (১৪ মে) রাতে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের টাউনসভিলে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার এবং ধারাভাষ্যকার।

কুইন্সল্যান্ডের পুলিশ জানিয়েছে, চলন্ত অবস্থায় সাইমন্ডসের হার্ভে রেঞ্জে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে ছিটকে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। জরুরি স্বাস্থ্য সেবা কর্মীরা তাকে উদ্ধার করলেও ঘটনাস্থলেই মারা যান সাবেক এই অজি তারকা ক্রিকেটার।

১৯৭৫ সালে জন্ম নেয়া সাইমন্ডস অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২৬ টি টেস্ট এবং ১৯৮ টি একদিনের ম্যাচ খেলেছেন। তারকা এই অলরাউন্ডার অজিদের হয়ে জিতেছেন দুইটি বিশ্বকাপ। এছাড়া বিশ্বকাপে সর্বমোট ১৮ টি ম্যাচ খেলে জিতেছেন সবকটিতেই।

২০০৩ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে তার অপরাজিত ১৪৩ রানের ইনিংস বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা ইনিংসগুলোর একটি।

বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়ে দিশাহীন বাংলাদেশের পরাজয়

অনলাইন ডেস্ক
৪ জুলাই ২০২২, রাত ৩:৪২ সময়

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই ক্যারিবিয়ানদের আকাশ যতটা উজ্জ্বল হচ্ছিল, টাইগারদের আকাশ ঢেকে যাচ্ছিল কালো মেঘে। ছন্নছাড়া বোলিংয়ের পর ধীরগতির বিরক্তিকর ব্যাটিং বাংলাদেশকে দিল বড় পরাজয়ের স্বাদ। ব্যাটে-বলে স্বাগতিকদের সামনে আজ দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশ! পরাজিত হতে হয়েছে ৩৫ রানের ব্যবধানে।

উইন্ডসর পার্কে রান তাড়ায় এনামুল হক বিজয় আর লিটন দাসকে দিয়ে শুরু করে বাংলাদেশ। বাউন্ডারি মেরে রানের খাতা খোলেন লিটন। কিন্তু দ্রুতই নেমে আসে বিপর্যয়। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই দলীয় ৮ রানে লিটনকে (৫) ফেরান ওবেদ ম্যাককয়। পরের বলে বোল্ড হয়ে যান অপর ওপেনার এনামুল হক বিজয় (৩)। ৮ রানে নেই ২ উইকেট! দলের বিপদ আরও বাড়ান অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। চমৎকার দুটি শটে চার-ছক্কা আদায় করে নিলেও দলীয় ২৩ রানে ওডেন স্মিথের বলে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন ১১ রান করে। এরপর সাকিব আর আফিফের ব্যাটে পাওয়ারপ্লেতে আসে ৪৪ রান।

কিন্তু দুজনের ব্যাটিং টার্গেটের সঙ্গে মোটেও মানানসই ছিল না। জুটি পঞ্চাশ ছাড়িয়ে গেলেও ১০ ওভারে দলের স্কোরবোর্ডে যোগ হয় মাত্র ৭৭ রান। অবশেষে ৪৩ বলে ৫৫ রানের ধীরগতির জুটি ভাঙে আফিফের বিদায়ে। শেপার্ডের বলে ২৭ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় ৩৪ রান করা আফিফ ক্যাচ দেন কিপারের গ্লাভসে। ৭৮ রানে চতুর্থ উইকেটর পতন। বাংলাদেশের পঞ্চম উইকেটের পতন হয় দলীয় ৯৭ রানে। আকিল হোসেনের বলে সীমানায় ক্যাচ দিয়ে ফিরেন ১৩ বলে ৭ রান করা সোহান।

১৫ ওভারে ১০০ স্পর্শ করে। ততক্ষণে দলের পরাজয় মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেছে। শেষদিকে সাকিব আর মোসাদ্দেক কেবল পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছেন। ৪৫ বলে ফিফটি তুলে নেন সাকিব। এটা তার ক্যারিয়ারের মন্থরতম ফিফটি। দুজনের ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে আসে ২৮ বলে ৫৩ রান। মোসাদ্দেক ১১ বলে ১৫ রানে শেপার্ডের দ্বিতীয় শিকার হন। সাকিব অপরাজিত থাকেন ৫২ বলে ৫ চার ৩ ছক্কায় ৬৮* রানে। এই ইনিংস খেলার পথেই তিনি টি-টোয়েন্টিতে দুই হাজার রান ছাড়িয়ে যান। বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৮ রানে থামে। ৩৫ রানের জয় তুলে নেয় ক্যারিবিয়ানরা।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৩ রান তোলে উইন্ডিজ। শেখ মেহেদি আর সাকিব আল হাসানের সৌজন্যে ২৬ রানে ২ উইকেট হারালেও ঘুরে দাঁড়ায় ক্যারিবিয়ানরা। তৃতীয় উইকেটে ৫৬ বলে ৭৪ রানের জুটি গড়েন ব্রেন্ডন কিং আর নিকোলাস পুরান। ৩০ বলে ৩৪ রান করা ক্যারিবিয়ান অধিনায়ককে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মোসাদ্দেক। সেটি ছিল মেডেন উইকেট। আশ্চর্য হলেও সত্য, এরপর মোসাদ্দেককে আর বোলিং দেননি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ।

শেষদিকে ব্যাট হাতে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন রোভম্যান পাওয়েল। খেলেন ২৮ বলে ২ চার ৪ ছক্কায় অপরাজিত ৬১* রানের ইনিংস। এছাড়া ব্রেন্ডন কিং ৪৩ বলে ৭ চার ১ ছক্কায় ৫৭ রান করেন। বাংলাদেশের হয়ে ৩ ওভারে সবচেয়ে বেশি ৪৬ রান দেন তাসকিন। ২ উইকেট নিলেও আরেক পেসার শরীফুল ৪ ওভারে দেন ৪০ রান। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন সাকিব এবং শেখ মেহেদি।