সূর্যকুমারের মারকুটে ব্যাটিংয়ে ভারতের ৭ উইকেটে জয়

স্পোর্টস ডেস্ক
৩ আগস্ট ২০২২, সকাল ৭:৫৪ সময়

সঙ্গে রভম্যান পাওয়েল ও শিমরন হেটমায়ারের শেষের ক্যামিওতে দেড়শ ছাড়ানো পুঁজি পেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু বোলিংয়ে লড়াই করতেই পারল না ক্যারিবিয়ানরা। সূর্যকুমার যাদবের মারকুটে ব্যাটিংয়ে ভারত পেল সহজ জয়।

তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-১-এ এগিয়ে গেল ভারত।

সেন্ট কিটসে মঙ্গলবার (২ আগস্ট) ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৪ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারত সেটি পেরিয়ে যায় এক ওভার বাকি থাকতে। ওয়ার্নার পার্কে টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবার দেড়শর বেশি রান তাড়া করে জিতল কোনো দল।

আগের রেকর্ড ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০১৭ সালে আফগানিস্তানের ১৪৬ রান তারা পেরিয়ে গিয়েছিল ৭ উইকেট ও ৪ বল হাতে রেখে। ৪৪ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলে ভারতের নায়ক সূর্যকুমার। এই ওপেনারের ইনিংসটি গড়া ৮ চার ও ৪ ছক্কায়।

২৬ বলে ৩ চার ও এক ছক্কায় ৩৩ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন কিপার-ব্যাটসম্যান রিশাভ পান্ত।

ত্রিনিদাদ থেকে যথাসময়ে লাগেজ না আসায় আগের দিন দ্বিতীয় ম্যাচ শুরু হয়েছিল তিন ঘণ্টা দেরিতে। তাই খেলোয়াড়দের বাড়তি বিশ্রাম দিতে তৃতীয় ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়া হয় দেড় ঘণ্টা। টস হেরে ব‍্যাট করতে নেমে ব্রান্ডন কিং ও মেয়ার্সের ব্যাটে ভালো সূচনা পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাওয়ার প্লেতে দুই জনে তোলেন বিনা উইকেটে ৪৫ রান।

অষ্টম ওভারে ৫৭ রানের শুরুর জুটি ভাঙে কিংয়ের বিদায়ে। ২০ বলে ২০ রান করা ডানহাতি ওপেনারকে বোল্ড করে এই সংস্করণে উইকেটের ফিফটি পূর্ণ করেন হার্দিক পান্ডিয়া। পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে ভারতের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ৫০০ রান ও ৫০ উইকেটের ডাবল স্পর্শ করলেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার।

তিন নম্বরে নামা নিকোলাস পুরানের মন্থর ব্যাটিংয়ে কিছুটা কমে যায় স্বাগতিকদের রানের গতি। মাঝে ২৩ বলে আসেনি কোনো বাউন্ডারি। এক পর্যায়ে অধিনায়ক পুরানের রান ছিল ১৭ বলে ৯। মেয়ার্স খেলেন চমৎকার সব শট। অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে মিডউইকেট দিয়ে ছক্কায় উড়িয়ে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এই সংস্করণে দ্বিতীয় ফিফটি করেন ৩৮ বলে। পুরানও চেষ্টা করেন খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসার। আভেশ খানকে চার মারার পর ভুবনেশ্বর কুমারকে ছক্কা হাঁকান তিনি। ওই ওভারেই কিপারকে ক্যাচ দিয়ে থামে তার ২২ বলে ২৩ রানের ইনিংস।

ভুবনেশ্বরের পরের ওভারে একটি ছক্কা মারার পরই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মেয়ার্স। ৫০ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৭৩ রান করেন তিনি। পরে পাওয়েল ও হেটমায়ারের ব্যাটে দেড়শ ছাড়ায় দলের সংগ্রহ। শেষ ওভারে আর্শদিপ সিংয়ের তিন বলের মধ্যে আউট হন দুজনই। ১৪ বলে ২ চার ও এক ছক্কায় পাওয়েল করেন ২৩ রান। ১২ বলে ২ ছক্কায় হেটমায়ার করেন ২০। ভারতের হয়ে ৩৫ রানে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন ভুবনেশ্বর। পান্ডিয়া ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে নেন একটি।

রান তাড়ায় নেমে দ্বিতীয় ওভারে বড় এক ধাক্কা খায় ভারত। আলজারি জোসেফকে ছক্কা-চার মারার পর অধিনায়ক রোহিত শর্মা মাঠ ছাড়েন পিঠে অস্বস্তি অনুভব করায়। পরে বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, চিকিৎসক দলের পর্যবেক্ষণে আছেন তিনি। সূর্যকুমার দলকে কক্ষপথে রাখেন শ্রেয়াস আইয়ারের সঙ্গে জুটি বেঁধে। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে তিনি ৩ ছক্কা ও ৬ চারে পঞ্চম ফিফটি তুলে নেন ২৬ বলে। পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর জোসেফকে আরেকটি ছক্কা মারেন চোখ ধাঁধানো এক শটে। এতে ১০ ওভারে বিনা উইকেটে ভারত তুলে ফেলে ৯৬ রান।

জমে যাওয়া জুটি ভাঙেন আকিল হোসেন। বাঁহাতি স্পিনারকে বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টায় বলের লাইন মিস করে স্টাম্পড হন শ্রেয়াস (২৭ বলে ২৪)। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৮৬ রান আসে ৫৯ বলে। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে থামেন সূর্যকুমার। ডমিনিক ড্রেকসের অফ স্টাম্পের বাইরের বল লেগ সাইডে খেলার চেষ্টায় ক্যাচ তুলে দেন তিনি। তখন ম্যাচ অনেকটাই ভারতের মুঠোয়। পাঁচ নম্বরে নেমে পান্ডিয়া যদিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তাতে কোনো সমস্যাও হয়নি ভারতের। দিপক হুডাকে সঙ্গে নিয়ে বাকিটা সহজেই সারেন পান্ত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৬৪/৫ (কিং ২০, মেয়ার্স ৭৩, পুরান ২২, পাওয়েল ২৩, হেটমায়ার ২০, টমাস ০, হোল্ডার ১; হুডা ১-০-১-০, ভুবনেশ্বর ৪-০-৩৫-২, আভেশ ৩-০-৪৭-০, পান্ডিয়া ৪-০-১৯-১, আর্শদিপ ৪-০-৩৩-১, অশ্বিন ৪-০-২৬-০)

ভারত: ১৯ ওভারে ১৬৫/৩ (রোহিত ১১, আহত অবসর, সূর্যকুমার ৭৬, শ্রেয়াস ২৪, পান্ত ৩৩, পান্ডিয়া ৪, হুডা ১০ ম‍্যাককয় ৪-০-৩৪-০, জোসেফ ৪-০-৩৯-০, ড্রেকস ৪-০-৩৩-১, হোল্ডার ৩-০-৩০-১, আকিল ৪-০-২৮-১)

ফল: ভারত ৭ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: ৫ ম‍্যাচ সিরিজের প্রথম তিনটির পর ২-১-এ এগিয়ে ভারত

প্রধানমন্ত্রী কি গড যে সমালোচনা করা যাবে না, প্রশ্ন ফখরুলের

আওয়াজবিডি ডেস্ক
৬ অক্টোবর ২০২২, বিকাল ৭:১৯ সময়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি গড, বিধাতা নাকি সৃষ্টিকর্তা যে সমালোচনা কেন করা যাবে না? এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক শোক র‌্যালির সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রশ্ন তোলেন।

ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘জনগণের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ঘরে ঘরে গিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘নির্যাতন, মামলার পরও বিএনপির আন্দোলন দমাতে পারেনি সরকার।’

দুর্নীতি, লুটপাটের খবর ধামাচাপা দিতে সরকার ২৯টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহে‌‌ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। বলেন, ‘এই সরকার জনগণের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের আর সময় দেয়া যায় না। আর পেছানো নয়, বাধা বিপত্তি এড়িয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।

ফখরুল আরও বলেন, ‘রক্ত ঝরছে, প্রয়োজনে আরও রক্ত দিয়ে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। আওয়ামী লীগ সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।’

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করা হবে। সরকারের পতন নিশ্চিত করা হবে।’

দেশব্যাপী আন্দোলন সংগ্রামে নিহত নেতাকর্মীদের স্মরণে এই শোক শোভাযাত্রা করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি। নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু করে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আরামবাগ হয়ে আবারও কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয় শোক শোভাযাত্রা।

শোক র‌্যালিতে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আমান উল্লাহ আমান, মো. আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মীর সরফত আলী সপু, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, শিরিন সুলতানা, নাজিম উদ্দিন আলম, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, রফিকুল আলম মজনু, মো. আমিনুল হক, মৎস্যজীবী দলের মো. আব্দুর রহিম, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আব্দুল মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসএম জিলানী, রাজীব আহসান, নাজমুল হাসান, শ্রমিক দলের মো. আনোয়ার হোসাইন, মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, মহিলা দলের হেলেন জেরিন খান, ছাত্রদলের রাশেদ ইকবাল খানসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

ইব্রাহিম/আওয়াজবিডি/ইউএস