চার ফিফটিতে বাংলাদেশের বিশাল স্কোর

অনলাইন ডেস্ক
৫ আগস্ট ২০২২, বিকাল ৫:৫৩ সময়
ছবি : এএফপি

একাদশের প্রথম চারজনই পূরণ করেছেন ফিফটি। ২০১৩ সালের পর কোনো ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশকে হারাতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। টানা ১৯ ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। আজ জিতলে সংখ্যাটা হবে ২০।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি একশ ছাড়িয়ে গেছে। হারারে ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল ধীরগতির। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং লিটন দাস সতর্ক ব্যাটিং করছিলেন। হারারের উইকেটে হালকা মুভমেন্ট আছে। বাঁহাতি পেসার এনগারাভা সেটি কাজে লাগিয়ে সমস্যায় ফেলছেন তামিমকে। অভিষিক্ত আরেক পেসার নিয়াউচিও যথেষ্ট ভালো বোলিং করছেন। ১০ ওভারে এই জুটি ৫১ রান তুলে ফেলে। যা তামিম-লিটনের ৭ম পঞ্চাশোর্ধ পার্টনারশিপ।

২৩.১ ওভারে দলের স্কোর তিন অংক স্পর্শ করে। ৭৯ বলে ফিফটি তুলে নেন তামিম ইকবাল। জুটি যখন তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে, তখনই ছন্দপতন। সিকান্দার রাজার বলে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ৮৮ বলে ৯ চারে ৬২ রান করা তামিম। ১১৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এর মাঝেই পূরণ হয় ওয়ানডেতে তামিমের ৮ হাজার রান। ৩০তম ওভারে ওয়েলিংটন মাসাকাদজাকে তিন বাউন্ডারি মেরে ক্যারিয়ারের ৭ম ফিফটি তুলে নেন লিটন কুমার দাস। এরপর এগিয়ে যেতে থাকেন তিন অংকের দিকে।

তিন বছর পর ওয়ানডে দলে ফেরা এনামুল হক বিজয়ের সঙ্গে তার জুটি পঞ্চাশ ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে মাসলে টান লাগে লিটনের। মাঠে শুশ্রুষা করেও লাভ হয়নি। রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়ার আগে তার সংগ্রহ ৮৯ বলে ৮১। ৩৭.৫ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর দুইশ ছাড়িয়ে যায়। তিন বছর পর ওয়ানডেতে ফিরে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি তুলে নেন এনামুল হক বিজয়। মিল্টন শুম্বাকে ডাউন দ্য উইকেটে ছক্কা মেরে ৪৮ বলে তিনি পঞ্চাশ পূরণ করেন।

এরপর এনামুল বেশ আগ্রাসী হয়ে ওঠেন। তার ৬২ বলে ৬ চার ৩ ছক্কায় ৭৩ রানের চমৎকার ইনিংসটি শেষ হয় ভিক্টর নিয়াউচির বলে মুসকান্দার তালুবন্দি হয়ে। ফিফটি পূরণ করেন মুশফিকুর রহিমও। ক্যারিয়ারের ৪২ নম্বর ফিফটি তুলে নিতে তিনি খেলেন ৪৮ বল, হাঁকান ৫টি বাউন্ডারি।  নির্ধারিত ৫০  ওভারে বাংলাদেশ তোলে ২ উইকেটে ৩০৩ রান।  মুশফিক ৫২ আর মাহমুদউল্লাহ ২০ রানে অপরাজিত থাকেন।

দেশে পা রেখেই গ্রেফতার লামিচানে

প্রথম আলো
৬ অক্টোবর ২০২২, রাত ৮:২৯ সময়
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির এক মাস পর দেশে ফিরেছেন নেপালের ক্রিকেটার সন্দীপ লামিচানে —ছবি: এএফপি

কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পরপরই তাকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।

এএফপিকে তার আটকের খবর নিশ্চিত করেছেন কাঠমান্ডু ডিস্ট্রিক পুলিশের মুখপাত্র দিনেশ রাজ মৈনালি।

লামিচানের দেশে ফেরার বিষয়ে খোজখবর রাখতে কাঠমান্ডু পুলিশের বিশেষ কিছু করতে হয়নি। এক ফেসবুক বার্তায় দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছিলেন লামিচানেই। কোন ফ্লাইটে, কখন কাঠমান্ডুতে পৌঁছাবেন, সেটাও তিনি সেই বার্তায় জানিয়েছিলেন।

ফেসবুক বার্তায় একই সঙ্গে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন লামিচানে।

‘ষড়যন্ত্রমূলক মামলা’য় আইনি লড়াই চালিয়ে আবারও ক্রিকেট মাঠে ফেরার প্রত্যয় জানিয়েছেন ২২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

লামিচানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেছিলেন ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী। মামলার সময় সিপিএল টি–টোয়েন্টি খেলতে ক্যারিবিয়ানে ছিলেন তিনি।

দুই দিন পর কাঠমান্ডুর একটি আদালত লামিচানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এ ঘটনায় নেপাল ক্রিকেট বোর্ড (সিএএন) তাকে জাতীয় দলের অধিনায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেয়। বাদ পড়েন সিপিএল থেকেও।

তাকে দেশে ফেরাতে গত মাসের শেষ সপ্তাহে ইন্টারপোলের সাহায্য নেয় নেপালের পুলিশ। ইন্টারপোল পরোয়ানা জারির ১০ দিনের মাথায় দেশে ফিরলেন নেপালের এই ক্রিকেটার।

আত্মপক্ষ সমর্থন করে লামিচানে ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘জনসাধারণের সমর্থন ও সমালোচনামূলক মন্তব্যকে আমি প্রেরণা ও শক্তি হিসেবে নিচ্ছি।

জানি, আমি এখন ষড়যন্ত্র এবং অন্যায় অভিযোগের একটি কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছি এবং এর প্রভাব অকল্পনীয় কিছু।

আমি নিশ্চিত যে আমাদের আইনি ব্যবস্থায় নির্দোষ প্রমাণিত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কিছু ব্যবস্থা অবশ্যই থাকবে। আমি শিগগিরই আমার বিরুদ্ধে করা অন্যায় মামলা এবং অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি সহায়তা চাইব।

আমি নিশ্চিত যে আমি ন্যায়বিচার পাব এবং আমার প্রিয় দেশের নাম ও খ্যাতি কুড়াতে শিগগিরই ক্রিকেটের মাঠে ফিরে আসব।’

মাঠে ফিরতে দ্রুত বিচারের প্রত্যাশাও করেছেন তিনি।

লেগ স্পিনার হিসেবে খ্যাতি কুড়ানো লামিচানে নিয়মিত ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টেও খেলেন। সিপিএলের আগে ভারতের আইপিএল, অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশেও খেলেছেন।

ইব্রাহিম/আওয়াজবিডি/ইউএস