ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ; বিশ্ববাণিজ্যে গত ১০০ বছরে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন

ছবি: সংগৃহীত
চলতি বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই একের পর এক নানা ‘বিতর্কিত’ ও তার মতে ‘যুগান্তকারী’ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সর্বশেষ বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় একশ দেশের ওপর বিভিন্ন মাত্রায় শুল্কারোপ করেছেন বহুল আলোচিত-সমালোচিত এ রিপাবলিকান নেতা। এতে গোটা দুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু কেন এমন পদক্ষেপ নিচ্ছেন- তার পেছনে যুক্তিও দাঁড় করিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্ব বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে বিবিসির অর্থনীতিবিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল ইসলাম মন্তব্য করেন, এসব শুল্ক বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে। তার মতে, শুল্ক থেকে পাওয়া রাজস্বের পরিমাণ লাইন চার্টে বসালে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
ফয়সাল ইসলাম উল্লেখ করেন, প্রায় ১০০ বছর আগে সেই ত্রিশের দশকে ভীষণভাবে সুরক্ষিত মার্কিন অর্থনীতির আমলে সর্বশেষ শুল্ক থেকে এ ধরনের উচ্চ রাজস্ব আদায়ের নজির দেখা গিয়েছিল।
এবার নতুন করে শুল্ক ঘোষণার পর এক রাতেই বিশ্বজুড়ে পুঁজিবাজারের দরপতন, বিশেষ করে, এশিয়ার বাজার পরিস্থিতি দেখেও বিষয়টির প্রভাব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত বিশ্ববাণিজ্যে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এর মাধ্যমেই এই শুল্কের প্রকৃত প্রভাব বোঝা যাবে।
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতিমালার উদ্দেশ্য মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতিকে ‘আবারও শূন্যে ফিরিয়ে নেওয়া’। এর মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে কারখানা সরিয়ে নিতে অনেক বছর দরকার। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় কাপড়, খেলনা, ইলেকট্রনিক্সসহ বেশকিছু পণ্যের দাম খুব দ্রুত বেড়ে যাবে। এখন প্রশ্ন হলো, কীভাবে বাকি দেশগুলো প্রতিক্রিয়া জানাবে।
ইউরোপের ক্রেতারা স্থানীয় কাপড় ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য কম দামে কেনার সুযোগ পাবেন। অনেক দেশ ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, এই বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হলে তাতে কেউ-ই জয়ী হবে না। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক আরোপের ঘোষণার এই দিনটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘আমরা একটি স্বাধীন ও সুন্দর জাতি হতে যাচ্ছি।’
‘এবং, এই দিনটিকে আপনারা ভবিষ্যতে স্মরণ করবেন। আপনারাই তখন বলবেন, 'তিনি (ট্রাম্প) সঠিক ছিলেন'। এই দিনটি আমাদের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন।’ আমদানিতে ন্যূনতম ১০ শতাংশ শুল্কারোপ। মার্কিন অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের জন্য অন্যান্য দেশের উপর 'ন্যূনতম ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক' ঘোষণা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা আগামী ৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।
যেসব দেশ শুধুমাত্র এই বেসলাইন শুল্কের মুখোমুখি হবে, সেগুলো হলো- যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, তুরস্ক, কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা, এল সালভাদর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব।
এছাড়া আগামী ৯ এপ্রিল থেকে আরো প্রায় ৬০টি দেশের ওপর উচ্চতর শুল্ক আরোপ শুরু হবে। এই দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছিল।
এমএন/আওয়াজবিডি
April 2025
৩৭-০৫ ৭৩ স্ট্রীট, জ্যাকসন হাইটস, নিউইয়র্ক-১১৩৭২, ফোন: ৬৪৬৩০৯৬৬৬৫, সার্কুলেশন ও বিজ্ঞাপন ইমেইল: [email protected]