logo
logo

মামদানিকে নিয়ে ট্রাম্পের মনোভাব বদল

সে নিউইয়র্কের দারুণ মেয়র হবে : ট্রাম্প

অনলাইন রিপোর্ট

হোয়াইট হাউজে এক বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানিকে নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে কথা বললেন। কয়েক মাস আগেও যাকে তিনি “কমিউনিস্ট” বলে আক্রমণ করতেন, সেই মামদানিকেই এবার ট্রাম্প বলেছেন—“নিউইয়র্কের জন্য খুব ভালো মেয়র হবেন।”

শুক্রবার এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

ওভাল অফিসে ট্রাম্প ডেস্কের পেছনে বসে ছিলেন, আর মামদানি দাঁড়িয়েছিলেন পাশে। সাংবাদিকদের সামনে প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি মামদানিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং নিউইয়র্কে জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সাহায্যের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, “সে যত ভালো করবে, আমি তত খুশি হবো। দল–মত এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের লক্ষ্য নিরাপদ ও শক্তিশালী নিউইয়র্ক।”

মামদানি বৈঠককে “উপকারী” বলে মন্তব্য করে জানান, আলোচনায় ভাড়া, বাজার, ইউটিলিটি বিলসহ শহরের মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। তিনি বলেন, “সাড়ে আট মিলিয়ন মানুষ এই শহরকে ঘর বলে। তাদের জীবন একটু সহজ করা—এটাই আমাদের লক্ষ্য।”

এরপর শুরু হয় প্রশ্নোত্তর। সাংবাদিকরা দুই নেতাকে আগের মন্তব্য নিয়ে মুখোমুখি করাতে চাইলেও দুজনেই বেশ হাসিমুখে পরিস্থিতি সামাল দেন। ট্রাম্পকে যখন মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে তিনি গতকালও মামদানিকে “কমিউনিস্ট” বলেছেন, তিনি বলেন—মামদানি অনেককে চমকে দিতে পারেন। আর মামদানি ট্রাম্পকে অতীতে “স্বৈরশাসক” বলেছিলেন—এ কথা তুলতেই প্রেসিডেন্ট হেসে বলেন, “আমাকে এর চেয়ে খারাপও বলা হয়েছে!”

গত কয়েক মাসে মামদানিকে ঘিরে রিপাবলিকানদের কড়া সমালোচনা, নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা, এমনকি নিউইয়র্কে ফেডারেল তহবিল বন্ধের হুমকির প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক ছিল চমকে দেওয়ার মতো। মামদানি কুওমোকে হারানোর পর ট্রাম্প তাকে তীব্রভাবে আক্রমণ করে আসছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিই জানান—মেয়র–নির্বাচিত মামদানির সঙ্গে বসার আগ্রহ ছিল তার।

বৈঠক শেষে ট্রাম্প আরও বলেন, “সে অন্যরকম। হঠাৎই উঠে এলো এবং এমন একটা প্রাইমারি জিতল, যা কেউ ভাবেনি। দারুণ কাজ করেছে।” তিনি স্বীকার করেন, মতভেদ থাকবে, তবে নিউইয়র্কের স্বার্থে দু’জনই সমাধানের পথ খুঁজবেন। তার ভাষায়, “সে যদি সফল হয়, আমিও খুশি হবো। নিউইয়র্ককে আরও ভালো করতে যা দরকার—আমরা তাকে সাহায্য করবো।”

হোয়াইট হাউজের এই বৈঠক তাই শুধু রাজনৈতিক নাটকীয়তা নয়—বরং দুই ভিন্নমতের নেতার মধ্যে অপ্রত্যাশিত সৌহার্দ্যের এক বিরল মুহূর্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ছবি : রয়টার্স

undefined/news/north-america/1f0c74dd-93d5-6550-a8d0-8a8e747fe928


logo
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : শাহ আহমদ

৩৭-০৫ ৭৩ স্ট্রীট, জ্যাকসন হাইটস, নিউইয়র্ক-১১৩৭২, ফোন: ৬৪৬৩০৯৬৬৬৫, সার্কুলেশন ও বিজ্ঞাপন ইমেইল: usa.awaazbd@gmail.com

Copyright © all Rights Reserved.